‘অপরিকল্পিত ও বেআইনীভাবে বিজিএমইএ ভবন গড়ে উঠেছিলো’

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, ২২/০১/২০২০

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিলের উপরে অপরিকল্পিত ও বেআইনীভাবে বিজিএমইএ ভবন গড়ে উঠেছিলো। চমৎকার ঢাকার উপর বিষফোঁড়ার মতো এই ভবন নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে এটি অপসারণের জন্য আমরা পরিকল্পনা নেই। সেই পরিকল্পনায় আইনগত কোন ত্রুটি যাতে না থাকে সেজন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেয়া হয়।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজধানীর হাতিরঝিলে অবস্থিত বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, টেকনিক্যাল কারণে তারা অপারগতা প্রকাশ করায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে ভবনটি অপসারণে আমরা দায়িত্ব দিয়েছি। তারা ছয় মাসের ভেতরে ভবনটি অপসারণ করবে। এ কার্যক্রম সার্বক্ষণিক দেখভাল করার জন্য বুয়েট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধিসহ নগর ও ইমারত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিম করা হয়েছে। এছাড়া রাজউকের নিজস্ব একটি টিমও এ কাজ নিয়মিত দেখভাল করবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের চেয়ারম্যান মোঃ সাঈদ নূর আলম, রাজউকের সদস্যবৃন্দ এবং হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক ও রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস প্রমূখ।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে পরিবেশ দূষণসহ সকল পারিপার্শ্বিক ক্ষতিকর পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা যান্ত্রিক উপায়ে এ ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবনের প্রতিটি স্তর ভাঙার সাথে সাথে ভাঙা অংশ দ্রুত সরিয়ে নিয়ে নির্ধারিত জায়গায় রাখা হবে যাতে কোনভাবেই র্যাং গস ভবনের মতো প্রাণহানি না ঘটে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নির্বিঘ্নে যাতে ব্যবসা করতে পারে, সেজন্য ভবন ভাঙার বহু পূর্বের প্রস্তুতির পরও বিজিএমইএকে তাদের নিজস্ব মালামাল সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। পোশাক শিল্পের রপ্তানী দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত। সরকারের দায়িত্ব জনগণের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা। ভবন ভাঙতে রাষ্ট্রের কোন টাকা ব্যয় হচ্ছেনা। যারা ভবনটি ভাঙছেন তারা নিজেদের খরচে ভবন ভেঙে রাষ্ট্রকে টাকা দিচ্ছেন। ফলে রাষ্ট্রের কোন ক্ষতি হচ্ছে না বা বিজিএমইএ-র জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না।

হাতিরঝিলের পানিতে দুর্গন্ধ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, আমি সকল সাংবাদিকদের অনুরোধ করবো হাতিরঝিল ঘুরে দেখার জন্য। এখন পানিতে সেরকম দুর্গন্ধ নেই। অস্ট্রেলিয়ান প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিদিন এখানকার পানি বিশুদ্ধ করা হবে। পানিতে যেনো ময়লা আবর্জনা না আসে সে ব্যবস্থা করা হবে। পানির আবর্জনা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিনাশ করা হবে।

অবৈধভাবে ভবন নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার চেয়ে বড় করে দেখি রোগ সারানোকে। রোগের কারণ নিয়ে অবশ্যই রিসার্চ করতে হবে, কিন্তু রোগ সারাতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়ম বিরোধী প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স কার্যক্রম বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে আমরা অনেক ব্যবস্থা নিয়েছি। যেখানে যে অনিয়ম আছে, সে অনিয়মের সাথে যারাই জড়িত, আমরা কাউকেই ছাড় দেবো না।

উল্লেখ্য, রাজউকের সাথে চুক্তি অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ সম্পন্ন করবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফোর ষ্টার এন্টারপ্রাইজ। এক্সকেভেটর, বুলডোজার, কংক্রিট জ্যাকহামার, দীর্ঘ ও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্রেন, ওয়েল্ডিং মেশিন, ড্রাম ট্রাক, গ্যাস কাটারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে ভবনের উপর অংশ হতে নিচের অংশ ধারাবাহিকভাবে অপসারণের জন্য আলোচ্য প্রতিষ্ঠানকে চুক্তির শর্ত দিয়েছে রাজউক।

সারাদিন/২২জানুয়ারি/টিআরএস