শীত কাটিয়ে গ্রামে নারী ও পুরুষদের সমন্বয়ে চলছে কাজ

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ণ, ২১/০১/২০২০

কেউ আর বসে নেই। সবাই এগিয়ে চলছে। প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার চাদরে সব কিছু বন্ধ থাকলেও গ্রামীণ জনপদের মানুষদের কাজ চলছে। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই সবার মতো করে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। এসব জনপদের মানুষগুলো তাঁতের কাজ থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজ করে। তারা বাড়ী ঘরও সামাল দেয়। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। কেউ আর বসে থাকে না। ভোর হতে না হতেই তারা ছুটতে থাকে নিজ নিজ কাজে।

সারা দেশের গ্রামীণ জনপদের মতো বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, নাটোরের দৃশ্য গুলো একই। সরেজমিনে বগুড়া চেজলার কাহালু থানার পালপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে ঘরে-বাইরে কাজ করে চলেছে সব বয়সী নারী ও পুরুষ। তারা মাটি দিয়ে হাড়ী পাতিল বানাচ্ছে। আবার কেউ কেউ মুড়ি বানিয়ে জেলার দিকে ছুটে চলছে।

সেখানে রমেশ মজুমদার সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, আমরা এই সব পেশায় অনেক বছর ধরেই আছি। তবে শীতের সময় একটু সমস্যা হয়। তবে কাজ তো কাজই। তাই বসে থাকার উপাই নেই।

বগুড়া জেলার গ্রামের পথে চললেই হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা-হিম শীতের বাতাস বয়ে যায়। শীতে বাঁকা হয়ে যেতে চাইছে শরীর। এরই মধ্যে দড়ি হাতে ভেড়া ও ছাগলের পাল নিয়ে মাঠে ছুটে চলেছেন আব্দুল আক্কাস নামের এক ১৫ বছর বয়সী।

নওগাঁ জেলার মাতাজী টু নজিপুর যাওয়ার পথেই নৌধুনী গ্রাম। সেই গ্রামের পথটি আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে মেঠো রাস্তা দিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে চলে যাওয়া যায়। গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়বে দুই চোখ ছাপানো বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। আর সেই পথের পাশে গজিয়ে ওঠা ঘাসে ঘাসে জমে আছে শিশিরের দানা।

সরেজমিনে নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানার নৌধুনী গ্রামের ওরাং পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে সবাই ভোরেই তাদের কাজে বের হয়েছে। কালী দেবী নামের এক নারী সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, শীতে তো বাইরে থেকে বের হতে ভালো লাগে না। তবে কাজ করে তো পেট বাঁচাতে হবে। তাই বাইরে যাই।

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, জয়পুরহাটের খিলক্ষেত থানার গ্রাম গুলো ভোর হতে না হতেই মানুষকে ছুটে চলে গোয়াল ঘরের দিকে, নারীরা লেগে যান ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার কাজে। এরই মধ্যে তড়িঘড়ি সেরে ফেলতে হয় রান্নার কাজটাও। কোনো রকম খাবার মুখে দিয়েই অনেককে গবাদি পশু নিয়ে ছুটতে হয় মাঠে।

তবে এসব গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও তেমন একটা নেই। তবুও ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা সংসারের কাজ শেষ করে স্কুলে চলে যাচ্ছে। নারীদেরও মাঠের ছোটখাটো বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়। ওদিকে গাছে গাছে ডেকে চলেছে ফিঙে, শালিক, বুলবুলি, কবুতরের দল।

নওগাঁ জেলার সাপাহার থানার আইহাই ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী সরলী গ্রামের কৃষক মাজেদুল ইসলাম সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবারের মানুষ। তাই দিনের কাজ দিনেই করতে হয়। একদিনের কাজ ফেলে রাখলে ওই দিনটাই সংসারের জন্য ক্ষতি নিয়ে আসে।

সেই গ্রাম বাসীরা জানান, এ অবস্থায় শীতের কথা ভাবলে পেটে ভাত যাবে না। কষ্ট স্বীকার করেই বেঁচে থাকার লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।

বগুড়া জেলার কাহালু থানার মালঞ্চা ইউনিয়নের আব্দুল করিম নামের এক কৃষক সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। জমি দেখভাল করতে হয় প্রতিদিন। শীতের চিন্তা করলে ঘরে আর ফসল উঠবে না। অর্ধেক ফসলই নষ্ট হয়ে যাবে।

গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল আলম জানান, এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। কর্ম করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। কেউ জমি চাষ করে, কেউবা গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি পালন করে। আবার অনেকেই দিনমজুরের কাজ করে। ফলে প্রতিদিনই শীত উপেক্ষা করে তাদের জীবনসংগ্রামে নামতে হয়।

সারাদিন/২১জানুয়ারি/টিআর