তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া যৌথভাবে কাজ করবে

বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে আইসিটি খাতের উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে ২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক সোমবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও আইসিটি টাওয়ারের আইডিয়া ফ্লোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এসময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন “স্টার্টআপ বাংলাদেশে- iDEA” প্রকল্পের সাথে কম্বোডিয়ার “ন্যাশনাল ইন্সিটিটিউট অব পোস্টস্, টেলিকমিউনিকেশনস্ অ্যান্ড আইসিটি (NIPTICT)” এবং “ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি, বাংলাদেশ” এর সাথে কম্বোডিয়ার “কম্পিউটার ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম (CamCERT)” এর মধ্যে অপর একটিসহ মোট ২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা স্মারকে “স্টার্টআপ বাংলাদেশে- iDEA” প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মজিবুল হক এবং কম্বোডিয়ার এনআইপিটিআইসিটি এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হেন স্যামবওয়েন নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন। অপরটিতে “ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি, বাংলাদেশ” এর মহাপরিচালক মোঃ রেজাউল করিম এনডিসি এবং কম্বোডিয়ার ডিরেক্টর জেনারেল অব আইসিটি চুনভাট নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক এবং কম্বোডিয়ার পোস্টস্ অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস্ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট (প্রতিমন্ত্রী) কান চ্যানমেতা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় “স্টার্টআপ বাংলাদেশ- iDEA” এর সাথে কম্বোডিয়ার “ন্যাশনাল ইন্সিটিটিউট অব পোস্টস্, টেলিকমস্ অ্যান্ড আইসিটি (NIPTICT)” একে অপরকে স্টার্টআপ সংস্কৃতি তৈরিতে সহযোগিতা করবে। সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট ও ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বিষয়ক গবেষনা ও উন্নয়ন, ডিজিটাল ট্যালেন্ট ও শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, শর্ট-টার্মভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন- কনফারেন্স, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, শিক্ষা সফর, কম্বোডিয়ার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপকে বিনিয়োগ ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করবে উভয় দেশ।

অপরদিকে “ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি, বাংলাদেশ” এর সাথে কম্বোডিয়ার “কম্পিউটার ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম (CamCERT)” এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে সাইবার অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাজ করবে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া। সাইবার ক্রাইম নিরসনে স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন পদ্ধতি, ব্রডার ফ্রেমওয়ার্ক চালুকরণ, জাতীয় তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশেষজ্ঞদের আদান-প্রদান করবে দুই দেশ।

এর আগে উভয় দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (JWG) দ্বি-পক্ষীয় প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ২০১৭ সালে উভয় দেশের সমঝোতা স্মারকের আওতায় ই-গভার্নমেন্ট, ই-পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারি, ই-লার্নিং, টেলিমেডিসিন, সাইবার সিকিউরিটি, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে গবেষনা ও উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে বেস্ট প্র্যাক্টিসগুলো বিনিময় করার মাধ্যমে দুই দেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নে কাজ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়নে উভয় দেশ একসাথে কাজ করে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। আগামী সেপ্টেম্বরে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ২য় বৈঠক কম্বোডিয়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

সভায় কম্বোডিয়ার পোস্টস্ অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস্ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট কান চ্যানমেতা ৪ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডিরেক্টর জেনারেল অব টেলিকম টল ন্যাক, ডিরেক্টর জেনারেল অব আইসিটি চুন ভাট, এনআইপিটিআইসিটি এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হেন স্যামবওয়েন এবং বোর্ড অব ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অ্যান্ড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড সেক্রেটারিয়েট এর কর্মকর্তা ভিথ ভিউথ।

অপরদিকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশের ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. বি.এম. আরশাদ হোসেন, কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটির নিয়ন্ত্রক আবুল মানসুর মোহাম্মদ সার্‌ফ উদ্দিন, “ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির মহাপরিচালক মোঃ রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়া সফরকালে দুই দেশের মধ্যে Cooperation in the field of Information and Communication Technology বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী গঠিত হয় জয়েন্ট ওয়ার্কি গ্রুপ (JWG)।

সারাদিন/২০ জানুয়ারি/ আরটিএস