পার্বত্য অঞ্চলে জমি লিজ নিয়ে জেএমবি’র প্রশিক্ষণ, আটক ৩

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, ২৫/১১/২০১৯

সরকারের কঠোর অবস্থানের পড়েও পার্বত্য অঞ্চলে জমি লিজ নিয়ে পুরনো জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে তুলেছিল বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

জেএমবির আমিরসহ গ্রেপ্তার তিনজনের বরাত দিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। রোববার (২৪ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন সাইদনগর এলাকা থেকে জেএমবির আমিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- জেএমবির আমির আবু রায়হান ওরফে মাহমুদ ওরফে আব্দুল হাদী, হাবিবুর রহমান ওরফে চাঁন মিয়া ও রাজিবুর রহমান ওরফে রাজিব ওরফে সাগর। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থাকা ১৫০টি ডেটোনেটর, জিহাদি বই, একটি কমান্ডো ছুরি ও ২০ পিস জেলজাতীয় বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছে, আবু রায়হান টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় লেখাপড়া করা অবস্থায় ২০১০ সালে মৃত তালহা এবং মৃত ডা. নজরুলের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে। সংগঠনের প্রতি একাত্মতা এবং বিশ্বস্ততার কারণে ২০১২ সালে সংগঠনের সিদ্ধান্তে তিনি কক্সবাজারে গিয়ে লেখাপড়াসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকার দায়ী (দাওয়াতি) শাখার প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম করতে শুরু করেন। ওই সময় তালহা প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য এক ব্যাগ কমান্ড ছুরি আবু রায়হানকে দেয়।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের ওপর নব্য জেএমবির যে গ্রুপটি হামলা চালিয়েছিল, তার প্রত্যেকটিতে ৫ জনের একটি জঙ্গি সেল ছিল। তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করা গেছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দু’জন এখন দৌড়ের ওপর আছে। তাদের ছবিও পুলিশের কাছে এসেছে। তাদের সেই সেল ভেঙে দেয়া হয়েছে। আর নতুন করে যাতে সেল গঠন হতে না পারে সে জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

পাহাড় এলাকা মানুষের যাতায়াত কম থাকায় জঙ্গিরা ওই এলাকাকে নিরাপদ হিসেবে বেছে নিয়েছে বলেও জানান মনিরুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গিরা কার মাধ্যমে কিভাবে জমি লিজ নিয়েছিল সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা একজনকে চিহ্নিত করেছি, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’