চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে

চট্টগ্রাম সংবাদদাতাচট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, ১৯/০১/২০২০

চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম। তিনি রোববার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ৫০ বছর পর কি পরিমাণ চাপ হবে সেটি এখন চিন্তা করেই উন্নয়ন কাজ ও ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, বে-টার্মিনাল দ্রুত নির্মাণের লক্ষ্যে ফাস্ট ট্র্যাকে আনতে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেবেন। দেশের অর্থনীতির গতিকে আরো বেগবান করতে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।

রফিকুল ইসলাম বলেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর ক্যাপিটাল ড্রেজিং হবে। সব খালের মুখে স্টিলের নেট দিতে হবে। পোর্টের লাইফ লাইন নদী। নদী না থাকলে পোর্ট থাকবে না। শিপিং ও অর্থ মন্ত্রী যৌথভাবে কাজ করলে বন্দর কাস্টমকেন্দ্রিক সমস্যা থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর দূষণরোধ ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান তিনি।

এসময় বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্যচিত্র তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে বন্দরের যে ক্ষমতা, এতেই বন্দরের বার্থ ৮০ শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ব্যবহার ২০ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, একটি বন্দরকে টিকিয়ে রাখার জন্য তার ৬০ শতাংশ ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থ আমরা বর্তমানে ৮০ শতাংশ ব্যবহার করছি। তাই বন্দরের ব্যবহার কমাতে হবে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর আগামীতে ৫৭তম অবস্থানে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন বন্দর চেয়ারম্যান।

এর আগে গত শুক্রবার ও শনিবার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্যরা চট্টগ্রাম বন্দরের নির্মাণাধীন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), কর্ণফুলী চ্যানেল ও প্রস্তাবিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন টিমে ছিলেন সদস্য রণজিৎ কুমার রায়, মাহফুজুর রহমান, এম আবদুল লতিফ, ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, এস এম শাহজাদা, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুছ ছাত্তার, উপসচিব বেগম মালেকা পারভীন, ড. দয়াল চাঁদ মন্ডল, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপপরিচালক আবদুল জব্বার, সিনিয়র সহকারী সচিব এসএম আমিনুল ইসলাম। বাসস

সারাদিন/১৯ জানুয়ারি/আরটিএস