এ বছরেই পূর্বাচলে স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, ১৫/০১/২০২০

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, এই বছরের মে মাসে পূর্বাচলে নিজস্ব স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্রে স্থাপন করা হবে। আগামী বছর থেকে পূর্বাচলে সুন্দর পরিসরে এধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারবেন। এখনকার মতো ৪/৫টি ক্যাম্পাসে যেতে হবে না।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত তৈরি পোশাক শিল্পপণ্যের চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সারা বছরজুড়ে আমাদের নিজস্ব স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্রটি ব্যবহার হোক। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্রে করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে আমি চাই সারা বছর আপনাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে এধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করুক।

এসময় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক, মেলার কো অর্গানাইজার এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক নন্দ গোপাল কে ও জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান জাকারিয়া ভূ্ঁইয়াসহ পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও এসোসিয়েশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৫ সালে আমি যখন ব্যবসা শুরু করি। তখন গার্মেন্টস খাতের সমস্ত কিছু দেশের বাইরে থেকে আসতো। এমন কি কার্টন, বোতাম, সুতা কন্টেইনার ভর্তি করে আসতো। এখন সব আমাদের দেশেই তৈরি হচ্ছে। আর আজকে বাংলাদেশ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে। এটা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা।

তিনি বলেন, আমরা বড় ধরেনর রফতানি করি ধরে নিই প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। আমাদের যদি এক্সেসরিজ না থাকতো, বাইরের দেশ থেকে আনতে হতো তাহলে কিন্তু রফতানি আয় কমে যেতো। এই খাতে প্রায় ৪/৫ লাখ শ্রমিক রয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো অবস্থানে আছি। এখন আমরা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে শ্রীলংকা, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করছি। এখাত থেকে সম্ভবত বিলিয়ন ডলার রফতানি হচ্ছে।

বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, গার্মেন্ট খাত ভালো নেই। এটা বলতে ভালো না লাগলেও বলতে হয়। গত ৬ মাসে এ খাত ভালো করেনি। এসময় ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ নেগেটিভ গ্রোথে আছি। সাড়ে ১০ ভাগ কোয়ান্টিটি কমে গেছে। গত ৬ মাসে ৬৯ টা কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ৩২ হাজার ৯শত জন চাকরি হারিয়েছে। একই সঙ্গে ৫৩ টি নতুন কারখানা হয়েছে। আমরা অনেকে না বুঝে এ ব্যবসায় চলে এসেছি ও আসছি।

তিনি বলেন, আমাদের গার্মেন্ট খাত যে ভাবে এগিয়েছে এক্সেসরিজ খাতও সেভাবে এগিয়েছে। গার্মেন্ট না থাকলে এক্সেসরিজও থাকবে না। এজন্য আমাদের আপনাদের বলার অভ্যাস কমাতে হবে। একই সঙ্গে আমরা বিক্ষিপ্তভাবে দাবি জানাই। এ কারনে পিছিয়ে যাই। এজন্য সবাই একসাথে সুপারিশ করলে ফল ভালো পাওয়া যাবে।

বিজিএপিএমইএ’র আব্দুল কাদের খান বলেন, চলতি বছরের প্রথামার্ধে পোশাকশিল্পের রফতানি হ্রাস পেয়েছে ৭.৭৪ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশসমূহের পোশাক রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই পোশাকশিল্পের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সুরক্ষার জন্য মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে পোশাকখাত-সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি ট্যাক্সফোর্স গঠন, জরুরি।

সারাদিন/১৫জানুয়িারি/টিআর