এখন এক বাসেই যেতে পারবে বাংলাদেশ ও ভারতের যাত্রীরা

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ১২:০৫ অপরাহ্ণ, ১৫/০১/২০২০

সড়কপথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকা থেকে সরাসরি এ বাস সেবা চালু হবে। নতুন এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমান্তে যাত্রীদের আর বাস পরিবর্তন করতে হবে না। যা আগে বাস পরিবর্তন করতে হতো। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক বৈঠকে আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কয়েক সূত্রে জানা গেছে।

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, ঢাকা-শিলিগুড়ি-গ্যাংটক (সিকিম)-ঢাকা এবং ঢাকা-শিলিগুড়ি-দার্জিলিং-ঢাকা রুটে পরীক্ষামূলক বাস চালুর পরিকল্পনা করেছে ঢাকা। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সড়কপথে ইতিমধ্যে যোগাযোগ থাকলেও সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। সীমান্তে পৌঁছে বাস পরিবর্তন করতে হয় যাত্রীদের। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাত্রীদের সীমান্তে বাস পরিবর্তন করতে হবে না।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, ২০১৫ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল মোটরযান চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চার দেশের মধ্যে অবাধ পণ্য ও যাত্রী সেবার লক্ষ্যে এ চুক্তিস্বাক্ষর হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ভুটান চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তা থমকে যায়। তবে সাউথ এশিয়া সাবরিজওনাল ইকোনিক কো-অপারেশন-১ (সাসেক-১), সাউথ এশিয়া সাবরিজওনাল ইকোনিক কো-অপারেশন-২ (সাসেক-২), সাউথ এশিয়া সাবরিজওনাল ইকোনিক কো-অপারেশন-৩ (সাসেক-৩) পথ হচ্ছে। আর অলরেডি সাসেক-১ এর কাজ শেষ হয়েছে। সাসেক-২ এর কাজ চলমান। সাসেক-৩ এর কাজও হবে। এতে এই চারটি দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বেগবান হবে।

সড়ক ভবনের মেইনটেইনস সারকেলের সুপারেন্টিংস ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, আমরা দক্ষিন এশিয়ার সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভিন্ন মাত্রা নিয়ে আসছি। এতে আমরা ভুটান, নেপাল ও ভারতকে এক সঙ্গে মিলে সাসেক-১, সাসেক-২ ও সাসেক-৩ যোগাযোগে মিলাবো। ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন, ঢাকা থেকে গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইল পর্যন্ত পথটি ছয় লেনে উন্নীত হয়েছে  এটি সাসেক-১ এর পথ। পরে আরও পথ বিস্তৃত হবে। এভাবে আমরা মিয়ানমারের সাথেও পথটি তৈরি করবো। মানে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশকে যোগাযোগ খাতে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। এভাবে গ্লোবালাইজেশনে আমরা অনেক দুর এগিয়ে যাবো।

সম্প্রতি নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক মোটরযান চুক্তি নিয়েও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সারাদিন/১৫জানুয়ারি/টিআর