রাজাকার কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২০ পূর্বাহ্ণ, ১৪/০১/২০২০

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় পার্টির প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী রাজাকার সৈয়দ মুহম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শেষে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে আপিল বিভাগ এই রায় দেন।

রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর আপিল আবেদনের ওপর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। সে অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় মামলাটি এক নম্বরে রাখা হয়।

কায়সারের বিরুদ্ধে গণহত্যার একটি; হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। কায়সারকে গণহত্যার একটি; হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হবিগঞ্জ মহাকুমার মুসলীম লীগ নেতা সৈয়দ মুহম্মদ কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জ ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ১৫২ জনকে গণহত্যা, ২ নারীকে ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতা বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ সহযোগিতার দায়ে এই সাজা দেওয়া হয়।

আর রায়ে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে ১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হলে এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড, চারটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, একটিতে ১০ বছর, একটিতে সাত বছর এবং একটিতে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ফাঁসির সাজা বাতিল চেয়ে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন কায়সার।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ৫০০ থেকে ৭০০ ‘স্বাধীনতাবিরোধীকে’ নিয়ে নিজেই ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করেন এই মুসলিম লীগ নেতা। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে তিনি লন্ডনে পালিয়ে যান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে ফেরেন এই রাজাকার কমান্ডার।

সারাদিন/১৪জানুয়ারি/টিআর