সাভারের গোলাপ গ্রাম এখন পর্যটন কেন্দ্র

সাভার প্রতিনিধি:সাভার প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, ১২/০১/২০২০

ছবি: হাসান ভূঁইয়া।

ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। আর তাই ফুলের প্রতি এই ভালোবাসার টানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুলপ্রেমীরা ছুটে আসেন সাভারের ‘গোলাপ গ্রামে’। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব বয়সের ফুলপ্রেমীরা বাগানে প্রবেশ করে হারিয়ে যান গোলাপের রাজ্যে। সারাদিন ঘুরে নিজেদের সাজিয়ে তুলছেন সাদা, পিঙ্ক, লাল, নীল ও হলুদসহ নানা রঙের বাহারি ফুল দিয়ে। দিনের পর দিন দর্শনার্থীদের পদচারণা বেড়েই চলেছে সাভারের এই ‘গোলাপ গ্রামে’।

ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নটি ‘গোলাপ গ্রাম’ নামে খ্যাত। এই ইউনিয়নের বাগ্নীবাড়ী, মইস্তাপাড়া, কাকাব, সামাইর, সাদুল্লাপুর, শ্যামপুর, আকরান নামের ৭টি গ্রামে প্রায় ৩শ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গোলাপের চাষ করা হয়। গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে আকাঁবাঁকা সরু পথ। তার দুই পাশে বিস্তীর্ণ এই গোলাপের বাগান।

সকালের শিশির ভেজা গোলাপে নরম আলোর ঝিকিমিকি। পুরো গ্রাম-জুড়েই ফুলের সৌরভ। চোখ জুড়ানো দৃশ্য নিয়ে সেজে আছে পুরো গ্রাম। যেদিকে চোখ যায় গোলাপ আর গোলাপ। শুধু সুবাস ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দিয়েই গোলাপ বিরুলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নাম পাল্টে দিয়েছে। বিশেষ করে সাদুল্লাহপুর ও শ্যামপুরকে এখন পর্যটকরা ‘গোলাপ গ্রাম’ হিসেবেই বেশি চেনেন।

ছবি: হাসান ভূঁইয়া

সকালে সাভারের গোলাপের বাগান গুলোতে তেমন কাউকে দেখা না গেলেও, বেলা বাড়ার সাথে সাথে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। ঘুরতে আসা ফুলপ্রেমীরা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তোলার পাশাপাশি অনেকেই মেতে ওঠেন সেলফতে। এভাবেই বিরুলিয়ার গোলাপ গ্রাম গুলো এখন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে বেলা বাড়ারর সাথে সাথে প্রতিটি বাগানেই শ্রমিকদের ব্যস্ততাও বেড়ে যায়। ফুল কাটা, ফুল বাছাই, ফুল ভেজানো, ফুল বাঁধাসহ সবই যেন কৃষক শেষ করেন সন্ধ্যার আগে। কারণ সন্ধ্যোর পরই জমে মোস্তাপাড়া ও শ্যামপুর ফুলের হাট। যেখানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ফুলের পাইকাররা এসে ফুল কেনেন।

কথা হয় এখানে ঘুরতে আসা আরিফুল ইসলাম আকাশের সাথে তিনি জানান, সময়ের অভাবে তেমন ঘুরতে যাওয়া হয় না, আজ একটু সময় ছিলো তাই ঘুরতে আসলাম, এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে, আরো ভালো লাগছে নানা রঙের ফুল দেখে, তাই তো ১০০ টি লাল গোলাপ ও ১০ টি হলুদ গোলাপ নিয়ে নিলাম প্রিয়জনের জন্য।

ফুল চাষী আব্দুল খালেক জানান, এই গোলাপ বাগানের আয় দিয়ে আমার সংসার চলে, আমি প্রায় ১০ বছর ধরে এই ব্যবসা করে আসছি। এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকজন আসা যাওয়া করে তারাও ফুল কিনে। তাছাড়া সন্ধ্যার পরে পাশেই একটি গোলাপের হাট বসে, সেখানে আমরা ফুল বিক্রি করি।

সারাদিন/১২ জানুয়ারি/ আরটি