ধামরাইয়ে বাসে নারী শ্রমিককে ধর্ষণের পর হত্যা, চালক আটক

সাভার প্রতিনিধিসাভার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ণ, ১১/০১/২০২০

ধামরাইয়ের একটি আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ভিতর‌ে মমতা আক্তার (১৮) নামে এক নারী শ্রমিককে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে বাসের চালককে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

শনিবার সকালে অভিযুক্ত বাসচালককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে ধামরাইয়ের কাওয়ালীপাড়া-বালিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হিজলী খোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে একটি জঙ্গলের মধ্যে থেকে ওই শ্রমিকের লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

আটক সোহেল (৩০) ফরিদপুর জেলার আমানত খানের ছেলে। সে ধামরাই উপজেলার জেঠাইল গ্রামে তার শশুর বাড়ি থেকে বাসচালকের কাজ করতো।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া গ্রামের শাজাহান মিন্টুর মেয়ে মমতা আক্তার (১৮) ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ডাউটিয়া এলাকায় প্রতীক সিরামিক্স কারখানায় কাজ করেন। প্রতিদিন ওই কারখানায় সকাল ৬ টায় কাজে যোগ দিতে হতো তাকে। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মমতার মা জুলেখা বেগম তার মেয়েকে বাড়ির পাশ থেকেই একটি বাসে কারখানায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে উঠিয়ে দেন। কিন্ত সন্ধ্যা পরও মেয়ে মমতা আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মমতার পরিবার।

ধামরাই থানাধীন কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) রাসেল মোল্লা জানান, কাওয়ালীপাড়া-বালিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের জঙ্গল লাশ পরে আছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এসময় লাশের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া নিহতের নারীর পড়নের কামিজ ছেড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, থানায় জিডি হওয়ার পরই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে রাতেই আমরা হত্যাকারীসহ বাসটিকে আটক করতে সক্ষম হই। আটক বাসচালকের মুখে হাতে ও গলায় মেয়ের নখের আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে।

তবে ওই শ্রমিককে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে কি না বিষয়টি অধিকতর তদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

সারাদিন/১১ জানুয়ারি/ আরটিএস