মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ভাবী ও ভাতিজাকে হত্যা করেছে দেবর

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতামানিকগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, ১১/০১/২০২০

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় মা-ছেলে খুনের ঘটনার হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পরকিয়া প্রেমের জের ধরে শিশু সন্তানসহ গৃহবধূ পারভীনকে খুন করেছে তারই দেবর। পুলিশের হাতে গ্রেফতারে পর দেবর সোলাইমান হোসেন (২৮) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে জানানো হয়,দেবর সোলাইমানের সাথে তার ভাবী পারভীনের ৫/৬ বছর ধরে পরকিয়া প্রেম চলছিলো। তিন মাস আগে সোলাইমান মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই ভাবী তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।

বুধবার রাতে সোলাইমান তার ভাবির রুমে গিয়ে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এসময় ভাবী তাকে আবারও বিয়ের কথা বলেন এবং গালিগালাজ করতে থাকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোলাইমান বিছানা থেকে নেমে এসে রুমের ভেতরে থাকা ধারালো চাকু নিয়ে প্রথমে ভাবির গলায় আঘাত করে।পাশে ঘুমিয়ে থাকা ভাতিজা নুরু মোহাম্মদ জেগে গেলে ওঠে কাকাকে চিনতে পারেন। সোলাইমান তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যার পর সোলাইমান ছুরি ও নিজের রক্তমাখা পোশাক ধুয়ে রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

জোড়া খুনের মামলার বাদি সাটুরিয়া থানার ওসি (তদন্ত)আবুল কালাম জানান, সোলাইমানকে শুক্রবার দুপুরে আটক করা হয়। পুলিশের কাছে সে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। পরে তাকে মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট জান্নাতুল রাফিন সুলতানার আদালতে তোলা হলে আসামী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।পরে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠান।

বুধবার রাতে সাটুরিয়া উপজেলার কাউন্নারা গ্রামের নিজ বাসা থেকে সৌদি প্রবাসী মজনু মিয়ার স্ত্রী পারভীন বেগম ও ৬ বছরের শিশু নূর মোহাম্মদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে পারভীনের মা মজিরন বেগম সাটুরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সারাদিন/১১ জানুয়ারি/ আরটিএস