ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সীমিত ব্যবহারের আইন পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২২ পূর্বাহ্ণ, ১০/০১/২০২০

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন নিজের ইচ্ছামতো সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে না পারেন সেজন্য তার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। আর এই আইনটি কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের প্রতিনিধি পরিষদে একটি ভোটে ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্বের পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

আর তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ বৃহস্পতিবারই একটি আইন অনুমোদন করেছে। এই আইনের পক্ষে ভোট পড়ে ২২৪টি। এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২২৪ জন এবং বিপক্ষে ১৯৪ জন ভোট দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হলেও কোনো পক্ষই সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি। গত সপ্তাহে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অভিজাত কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে গত বুধবার ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

তারপর থেকে দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধের দামামা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প যেন হুট করেই নিজের সিদ্ধান্তে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে না পারেন সেজন্যই প্রতিনিধি পরিষদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনার পক্ষে ভোট হয়েছে।

এই প্রস্তাবনা পাসের ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

প্রতিনিধি পরিষদের এই প্রস্তাবনা সিনেটে ওঠা অন্যান্য প্রস্তাবনার মতোই। এই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কংগ্রেস থেকে পরবর্তীতে কোনো অনুমোদন না পেলে প্রেসিডেন্টকে ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

এর আগে এক বিবৃতিতে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি গত সপ্তাহে কংগ্রেসের সাথে পরামর্শ না করে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের কুডস বাহিনীর কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেন।

তিনি বিমান হামলাকে একটি “উস্কানিমূলক এবং অপ্রাসঙ্গিক” পদক্ষেপ হিসাবে অভিহিত করেন যা যুক্তরাষ্ট্রের সেনা এবং কূটনীতিকদের বিপন্ন করে তোলে।

ওই আইনে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করা পর্যন্ত বা সংবিধিবদ্ধ অনুমোদন না দেয়া পর্যন্ত অথবা যুক্তরাষ্ট্র, তার অঞ্চল বা সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে আসন্ন আক্রমণ থেকে রক্ষা ব্যতীত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ব্যবহার বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

পেলোসি বলেন, “প্রশাসনের উচিত একটি তাত্ক্ষণিক, কার্যকর কৌশল অবলম্বন করা যা সহিংসতা বৃদ্ধি রোধ করে। যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব এই যুদ্ধের বোঝা বহন করতে পারবে না।

সারাদিন/১০জানুয়ারী/টিআর