দেশের স্থায়ী রূপ দিতে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধিকে স্থায়ী রূপ দিতে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জাতীয় ঐকমত্য ব্যতীত শান্তি ও সমৃদ্ধি স্থায়ী রূপ পেতে পারে না। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন ও অব্যাহত আর্থসামাজিক উন্নয়নে সকল রাজনৈতিক দল, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে সকলের ঐকমত্য গড়ে তোলার সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে ২০২০ সালের প্রথম অধিবেশনে ভাষণে একথা বলেন রাষ্ট্রপ্রধান আবদুল হামিদ। সংবিধান অনুযায়ী বছরের শুরুর অধিবেশন শুরু হয় রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।

জাতীয় সংসদকে দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে আইনসভাকে কার্যকর রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।

গণতন্ত্র চর্চা ও উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারে ভূমিকার প্রশংসা করেন আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, শত প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি ও বৈরিতার মধ্যেও দেশে সুশাসন সুসংহতকরণ এবং গণতন্ত্র চর্চা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

সদ্য শেষ হওয়া বছরে আলোচিত বিভিন্ন মামলার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলা এবং বিডিআর হত্যাকাণ্ড মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালত কর্তৃক দোষীদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া হলি আর্টিজান হামলা মামলা, নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় দ্রুত প্রদান করা হয়েছে। দুর্নীতি, জুয়া, মাদক, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে এবং জনজীবনে স্বস্তি বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

অধিবেশন শুরুর পর শোক প্রস্তাব গ্রহণ হয়। এরপর রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশন মুলতবি করেন স্পিকার। পরে সন্ধ্যা ৬টায় আবার অধিবেশন শুরু হয়। মুলতবি বৈঠক শুরুর পরে স্পিকার রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দিলে সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদক দল বিউগলে ‘ফ্যানফেয়ার’ বাজিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানকে সম্ভাষণ জানান।

মুজিববর্ষ উদযাপনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এবছর উদ্‌যাপিত হবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। জাতির পিতার জীবনাদর্শ, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য তার অব্যাহত সংগ্রাম, নির্ভীক, দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব এবং তার গভীর দেশপ্রেম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে জাতির পিতার জীবন দর্শন ও কর্ম বিশেষভাবে উপস্থাপনের জন্য মুজিব বর্ষ উদ্‌যাপনের বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি জানান, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে বিষয়ভিত্তিক সমন্বিত কর্মপরিকল্পনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে মোট ২৯৩টি কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭ মার্চ ২০২০ হতে ১৭ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত মুজিববর্ষে দেশ ও দেশের বাইরে সরকারি কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা সকলেই জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যার যার নিজস্ব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

ভাষণ শেষ হলে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানান। পরে স্পিকার সোমবার পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করেন।

সারাদিন/৯জানুয়ারি/টিআর