‘গাজীপুরে সন্ত্রাসীদের হামলার পর হত্যা, আতঙ্কে দম্পতি’

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, ০৯/০১/২০২০

ভুক্তভোগী দম্পতিরা বলেন, গাজীপুরে আমাদের মারধর করার পর পুনরায় অপহরণ ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। মামলা করার পরও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন এই দম্পতি মো. ফয়েজ আহমেদ বাবু ও তার স্ত্রী মোছা. হোসনে আরা বেগম।

দম্পতিরা আরো জানান, সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও র‌্যাব প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানান য়েছেন ভুক্তভোগী দম্পতি।

লিখিত বক্তব্যে মো. ফয়েজ আহমেদ বাবু জানান, গত ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে গাজীপুরের দেওড়া কাজীবাড়ী কাজী বাবুর সমিতির অফিসের সামনের পাকা রাস্তা থেকে তাকে সন্ত্রাসী মো. সাইফ ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী কাজী বাবু, মো. জয়নাল, মো. পাপ্পু, মো. লিমন, মো. রিপন ও অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জন অস্ত্র দেখিয়ে গতিরোধ করে।

পরে তারা হত্যার হুমকি দিয়ে জোড়পূর্বক সন্ত্রাসী সাইফের বাসায় নিয়ে আটক করে তার স্ত্রী হোসনে আরা কোথায় আছে তা জানতে ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা বলে যদি হোসনে আরার সন্ধান না দিস তাহলে তোকে হত্যা করা হবে। তারা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে ও হাতের আঙুল ভেঙ্গে ফেলে।

লিখিত বক্তব্যে মো. ফয়েজ আহমেদ বাবু আরও জানান, তিনি নিজেকে বাঁচাতে চিৎকার করে সাহায্য চাইলে সাইফের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং পুনরায় লাঠি, হকস্টিক, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে মারাত্মক জখম করে।

তিনি আরও জানান, পরে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয়রা ৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে সাইফের বাড়ি থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে সুস্থ্য হওয়ার পর তিনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গাজীপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এর ফলে সন্ত্রাসী সাইফ ও তার সহযোগিরা তাকে ও তার স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়া অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে তারা জীবন বাঁচাতে আত্মগোপনে থাকতে ও পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সারাদিন/৯জানুয়ারি/টিআর