জাতীয় বস্ত্র দিবস ও বস্ত্রমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১:২৩ অপরাহ্ণ, ০৯/০১/২০২০

ছবি: ফোকস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০১৯ ও বস্ত্রমেলার উদ্বোধন করেছেন। এসময় তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে বস্ত্রখাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এ জন্য এখাতে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। জিডিপিতে বস্ত্রখাতের অবদান ১৩ শতাংশ, নারীদের কর্মসংস্থানে এ খাতটি বড় ভূমিকা রাখছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। এ মেলা ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। বাজার ধরে রাখতে হলে কোন দেশে কোন ধরনের পোশাকের চাহিদা রয়েছে, তাদের পছন্দের রং কী, কোন সিজনে কোন পোশাক তারা পরে, কোন ডিজাইন কোন দেশের মানুষের পছন্দ, এগুলো খুঁজে বের করতে হবে। শুধু পোশাক শিল্প নয়, অন্যান্য শিল্পের সঙ্গেও যারা জড়িত আছেন, তারা সারা বিশ্বে বাজার খুঁজবেন। কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা আছে, সে অনুযায়ী পণ্য তৈরি করে বিদেশে রফতানি করবেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এছাড়া বাণিজ্য সম্প্রসারণে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দেশকে সার্বিকভাবে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে আমারা কাজ করছি। বস্ত্র খাতের পাশাপাশি কৃষিকেও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ কি পরিমাণ এগিয়েছে তা আপনারা সবাই জানেন। আজ আমাদের জিডিপির আকার ২০০৯ এ ছিল ১০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অপরদিকে আমাদের রপ্তানি আয় সেই বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে যা ছিল তার তুলোনায় তিন গুণ বেড়ে ২০১৮-১৯ সালের অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৬.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

তিনি বলেন, আমার দেশের কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ সবাই উন্নত জীবনযাপন করবে। আমরা যে ডেল্টা প্লান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি তাতে করে একদিন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিশ্ব দরবারে আমরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। আগামী প্রজন্ম যাতে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পায় সে লক্ষেই আমরা কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাল (শুক্রবার) মুজিববর্ষের কাউন্টডাউন শুরু হবে। আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববর্ষ পালন করব। এ ছাড়া আগামী বছরে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। ২০২১ থেকে ৪১ সাল পর্যন্ত আমরা একটা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা তৈরি করেছি। এ ছাড়া বাংলাদেশ যেহেতু একটি বদ্বীপ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেন ক্ষতির সম্মুখীন না হই, সেজন্য ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ হাতে নিয়েছি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ দেশের মানুষ যেন সুখে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেই কর্মসূচি গ্রহণ করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া।

বস্ত্রখাতের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় অনুষ্ঠানে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা পদক দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সারাদিন/৯জানুয়ারি/ আরটি