রিফাত হত্যা মামলায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। বুধবার ৮ (জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এই চার্জ গঠন করেন।

চার্জ গঠনের লক্ষে এ মামলার ১৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। একই সাথে আদালতে উপস্থিত হন জামিনে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোল্লাও। পরে আসামিদের উপস্থিতিতেই তাদের বিরুদ্ধ আনা অভিযোগ পড়ে শুনানো হয়। চার্জ গঠন শেষে আদালত কারাগারে থাকা ১৩ আসামিকে আবারো কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু জানান, রিফাত হত্যা মামলা অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন সম্পন্ন হয়েছে। ১৪ আসামির মধ্যে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ এর ভিত্তিতে ৩০২ এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এরই মধ্য দিয়ে রিফাত হত্যার বিচার শুরু হলো।

এর আগে যশোর শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র থাকা ১৩ আসামিকে বরগুনা আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশি নিরাপত্তায় বুধবার সকাল ৮টার দিকে তাদের আদালতে আনা হয়। গত ১ জানুয়ারি এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন সম্পন্ন হয়েছিল।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলো- রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ মহিবুল্লাহ, মারুফ মল্লিক, প্রিন্স মোল্লা, রাতুল সিকদার জয়, আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ, মো. আবু আবদুল্লাহ রায়হান, মো. ওলিউল্লাহ অলি, জয় চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাইম, মো. তানভীর হোসেন ও নাজমুল হাসান।

অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি আরিয়ান হোসেন শ্রাবণের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র, সহযোগিতা এবং আসামিদের পালাতে সহায়তার অভিযোগে ৩০২ এবং ১২০ (বি) ১ এবং ২১২ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত।

২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; দুই ভাগে বিভক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন।

এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক রয়েছেন। এছাড়াও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোল্লা উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে রয়েছেন। বাঁকি সব আসামি এখন কারাগারে অবস্থান করছেন।

সারাদিন/৮জানুয়ারি/টিআর