তীব্র শীতে জনজীবন স্থবির

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ণ, ০৮/০১/২০২০

 

তীব্র শীতে কাঁপছে রাজধানী সহ সারা দেশ। এতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দেশের গ্রাম ও শহরের নিম্নবিত্তদের ভোগান্তি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দেশের গড় তাপমাত্রা আরও ১ ডিগ্রি কমতে পারে।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা আছে রাজধানী। দুপুরে সূর্য উঠলেও তা স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে না। ফলে বাড়েনি তাপমাত্রা। তবে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল থেকে শুরু হয় কনকনে বাতাস। ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হয় সে বাতাস।

এদিকে, এই তাপমাত্রা আরও এক থেকে দুইদিন স্থায়ী হতে পারে। এরপর আবার বৃষ্টিরও শঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা আগের মতোই থাকবে। আর বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

সকালে ঘন কুয়াশার মধ্যেই স্কুলে নতুন ক্লাসে যেতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে সকালে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে। একই অবস্থা হয় অফিসগামী সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও।

রাজধানীর খিলক্ষেতে আয়েশা বেগম নামের এক গৃহকর্মী সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, আমি এই কুয়াশার মধ্যে বাজার করতে এসেছি। আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেছে। এ থেকে বাঁচার কোনো মাধ্যম নেই।

ঠাণ্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে রিকশা চালকদের। এই শীতে অনেকেই এক বেলা, আবার অনেকেই রাতে রিকশা চালিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, ফুটপাতে বেড়ে গেছে গরম কাপড় বিক্রি।

ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে তানিয়া আহমেদ নামের এক শিশু। তিনি সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, এতো শীতে রাস্তায় বের হওয়াও কঠিন। তারপরেও এসেছি।

ঘন কুয়াশা আর কনকনে বাতাসের কারণে বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাস্তার পাশে কাগজে আগুন দিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করেন কেউ কেউ। রাতে ফুটপাতে শুয়ে থাকা মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। হু হু বাতাসের মধ্যে পাতলা একটা চাদরে নিজেকে মুড়িয়ে ঘুমাতে দেখা যায় অনেককেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান সারাদিন ডট নিউজকে জানান, ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ না হলেও ঠাণ্ডার অনুভূতি বেশ তীব্র। কারণ ঢাকায় সূর্য উঠলেও তাপ ছড়াতে পারেনি। ফলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা খুব একটা বাড়েনি। এদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৬। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২। এই দুই তাপমাত্রার মধ্যে ব্যবধান কম হওয়ার কারণে ঠাণ্ডার অনুভূতি বেশি হচ্ছে। এই তাপমাত্রার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের বাতাসের কারণে রাজধানীবাসীর ঠাণ্ডা লাগছে বেশি।

এদিকে চলতি মাসের মাঝামাঝি আরও একটি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি মাসে দেশে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুইটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং সেখানে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও এর আগে সকাল ৬টায় রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অপরদিকে ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার সকাল পৌনে ১০টা থেকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে নিশ্চিত করেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে মাঝ নদীতে দুইটি রো রো ফেরি এবং দুইটি ইউটিলিটি ফেরি আটকে পড়ে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন ( বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, মধ্যরাত ২টার দিকে নদীতে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় মাঝ পদ্মায় যাত্রী ও পরিবহন নিয়ে চারটি ফেরি আটকা পড়ে।

সারাদিন/৮জানুয়ারি/টিআর