পিস্তল ঠেকিয়ে যুবককে বিয়ে করলেন তরুণী!

রাজশাহীতে এক তরুণী অপহরণ করেছে এক যুবককে। শুধু অপহরণই নয়, তিনি যুবককে জোর করে বিয়েও করেছেন। আর এই অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক যুবক। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে সেই যুবক সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন।

ভুক্তভোগী যুবকের নাম সুরুজ বাসফর (২৬)। তার বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানায়। এ বিষয়ে সুরুজ রাজপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

এ বিয়ের নিবন্ধন হয়নি। হিন্দু ধর্মের প্রথা অনুযায়ী মাথায় সিঁদুর দিয়ে এ বিয়ে হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সুরুজ।

সুরুজ জানান, তিনি হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকেন। পাশেই কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে থাকেন ওই তরুণীর পরিবার। স্বামী পরিত্যক্তা ওই তরুণীর সঙ্গে বিয়ের জন্য তাকে প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি সেই প্রস্তাব নাকচ করেন। এরই মধ্যে তিনি কোয়ার্টার ছেড়ে দিতে নতুন বাসা খুঁজতে শুরু করেন।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) ওই তরুণী এবং তার মা তাকে বাসা দেখানোর নাম করে হাসপাতাল থেকে ডেকে নিয়ে যান। অটোরিকশায় ওঠার পর হঠাৎ অপরিচিত দুই যুবকও অটোরিকশায় ওঠেন। তারা জোর করে তাকে হড়গ্রাম শিবমন্দিরে নিয়ে যান। সেখানেও আগে থেকে ৭-৮ জন যুবক অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু মন্দিরে ছিলেন না কোনো ঠাকুর।

সুরুজ দাবি করেন, মন্দিরের সামনে তাকে অস্ত্রের মুখে তরুণীর মাথায় সিঁদুর দিতে বাধ্য করা হয়। তখন সেই ছবি তোলা হয়। এরপর থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে তার সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে হয়ে গেছে।

সুরুজ আরও বলেন, এ ঘটনার পর থেকে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি কখনও ওই তরুণীর বাসায় যাননি। এ বিয়ে তিনি মানেন না।

এ ঘটনায় সুরুজ প্রথমে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ করেন। তারপর থেকে ওই তরুণীর পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। আর তার মামা এবং বোন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ সময় তাদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন সুরুজ বাসফর।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরদিনই তিনি রাজপাড়া থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। রাজপাড়া থানার ওসি শাহাদাত হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, নিবন্ধন না হলে তো আইনগতভাবে বিয়ের কোনো ভিত্তি নেই। এটা প্রথা অনুযায়ী হতে পারে। আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সারাদিন/৮জানুয়ারি/টিআর