জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের লক্ষ দিয়ে এগুচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, ০৭/০১/২০২০

জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের লক্ষ দিয়ে এগুচ্ছি বলে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছি। আর তা হলো জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করি। কেউ দুর্নীতি করেও পার পাবে না। সে যতই শক্তিশালী হোক না কেন।’

বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দশ বছর আগের বাংলাদেশ আজকের বাংলাদেশের মধ্যে অনেক ব্যবধান। মানুষ আজ সমৃদ্ধ জীবনের স্বপ্ন দেখে। উন্নত জীবনে স্বপ্ন দেখে। পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হবে আর সে সেতু দিয়ে মানুষ চলাচল করবে, এটা ছিল স্বপ্নের মতো। আমরা সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছি। মেট্রোরেলের কাজ চলমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানমালা যুগপৎভাবে চলতে থাকবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই উদযাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতা-সর্বস্ব নয়, এই উদযাপনের লক্ষ্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা; স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানমালা যুগপৎভাবে চলতে থাকবে।’

দুর্নীতি নিয়ে:

যেই দুর্নীতি করুক তাদের আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান থাকবে, যে-ই অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। সাধারণ মানুষের ‘হক’ যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আবারও সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই- দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, যত শক্তিশালীই হোক না কেন- তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

ছবি: পিআইডি

মিয়ানমার নিয়ে:

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ফাঁদে বাংলাদেশ পা দেয়নি বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে আমরা দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধান করতে চাই। এটি আমাদের দুর্বলতা নয়, কৌশল। এ কারণেই মিয়ানমারের দিক থেকে নানা উসকানি সত্ত্বেও আমরা সে ফাঁদে পা দেইনি। আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের পথ থেকে সরে যাইনি।

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস’-এ (আইসিজে) থেকে একটা সমাধান সূত্র পাওয়া যাবে আশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে মামলা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই আদালত থেকে আমরা একটি স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে পাবো।

ভরসা রাখুন:

জীবনের একমাত্র লক্ষ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার উপর ভরসা রাখুন। আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন এসব মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তার কন্যা হিসেবে আমার জীবনেরও একমাত্র লক্ষ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমার উপর ভরসা রাখুন। আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের একবছর পূর্ণ হলো। বিগত একবছর আমরা চেষ্টা করেছি আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে। আমরা সবক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়েছি তা দাবি করবো না। কিন্তু এটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি, আমাদের চেষ্টার ত্রুটি ছিল না।

ধ্বংসাত্বক কর্মকাণ্ড নিয়ে:

শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে স্বাগত জানানো হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে, অযৌক্তিক দাবিতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে আমরা বরদাশত করবো না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আমরা বিশ্বাস করি জনগণের রায়ই হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের একমাত্র উপায়।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসী আপনারা অতীতে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাতের অগ্নি-সন্ত্রাস ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা দেখেছেন। বাংলাদেশের মাটিতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না।

জনগণকে সব সময়ই সব ধরনের গুজব বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সারাদিন/৭জানুয়ারি/ আরটি