ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম বেড়েছে: কৃষিমন্ত্রী

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ২২/১১/২০১৯

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, চালের দামের বৃদ্ধিতে কোনো কারসাজি নেই। ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাবে বেড়েছে চালের দাম এবং এতে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন।

চালের সাম্প্রতিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার জবাবে বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেন কৃষিমন্ত্রী।

আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, গত মওসুমে ধানের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। ফলে ধানের দাম অনেক কমে গিয়েছিল। ওই সময় কৃষক ধানের দাম পাচ্ছিল না। তা নিয়ে পত্র-পত্রিকা, নাগরিক সমাজের নেতা, রাজনৈতিক নেতারা সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি সরকারে থেকে আমিও এনিয়ে কথা বলেছিলাম।

তিনি বলেন, এখন গত ৬/৭ দিন ধরে চালের দাম কেজিতে ৪/৫ টাকা বেড়েছে। ধানের দামও বেড়েছে প্রতি মনে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পত্রিকায় এনিয়েও লেখা হচ্ছে, ডেইলি স্টার পত্রিকায় শিরোনাম করেছে রাইস গেটস প্রিসিয়ার।

কৃষিবিদ রাজ্জাক বলেন, আমি এবিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে ও মিল মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। দীর্ঘদিন পর বাজারে ধানের দাম বেড়েছে। একইভাবে চালের দামও বেড়েছে। খুব সম্ভবত ধানের দাম বৃদ্ধির একটা প্রভাব চালের দামে পড়েছে। সরকার এতদিন মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল কিনলেও এবারই সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতেও কৃষকরা উপকৃত হবে বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না। কারণ এই মওসুমে যেসব কৃষক ধান বিক্রি করবে, পরের মওসুমে তারা তালিকা থেকে বাদ যাবে।

Nagad

২০ নভেম্বর থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ টন ধান কেনা শুরু করেছে সরকার, যা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সরকার ধান কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর চলতি নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই বাড়তে শুরু করে চালের দাম।

২৬ টাকা কেজি হিসাবে প্রতি মণ ধানের দাম পড়ে ১০৪০ টাকা। যদিও আউশ মওসুমে ৬০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায় ধান বিক্রি হয়েছিল।

রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক মেলার উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী রাজ্জাক।

সেখানে একই সঙ্গে সপ্তম বাপা ফুডপ্রো, নবম এগ্রো বাংলাদেশ এক্সপো এবং ষষ্ঠ রাইস অ্যান্ড গ্রেইনটেক এক্সপো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে।

মেলায় বিভিন্ন দেশের তিন শতাধিক কোম্পানি অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে কেবল ভারত থেকে অংশ নিয়েছে সর্বোচ্চ ৬৫টি প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি আহসান খান চৌধুরী বলেন, কয়েক বছর আগে এগ্রো প্রসেসিং খাত বড় ধরনের বিপদের মধ্যে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান কৃষিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই পরিস্থতির উত্তরণ ঘটেছে।