আপনাদের চাওয়ার আগেই সব দিয়ে দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, ০৬/০১/২০২০

উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আগে থানায় ১০-১৫ জন করে লোক থাকতো। এখন প্রত্যেক থানায় অফিসারের সংখ্যা, পদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পদোন্নতির সুযোগও বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। কাজেই আপনারা হিসাব করে দেখেন আগে সুযোগ কেমন ছিল আর এখন কেমন। আপনাদের চাওয়ার কিছু নেই। চাওয়ার আগেই আপনাদের সব দেওয়া হয়েছে।’

সোমবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঠিকমতো চলতে পারলে দেশের উন্নতি হয়। এজন্য আপনাদের দাবি তোলার আগেই আমি পূরণ করেছি। ৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে দেখি পুলিশের বাজেট ৪০০ কোটি টাকা। আমরাই বাজেট দ্বিগুণ করে দেই। তখন পুলিশ রেশন পেতো ২০ শতাংশ। সেটাও আমরা দ্বিগুণ করে দিয়েছিলাম। তখনকার অর্থনৈতিক অবস্থা ততটা ভালো ছিল না। তারপরও সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব করেছি। প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহ আসলে দাবি আসে। রোববার আমি আপনাদের দাবির বিষয়ে যা বলার বলে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়। জাতির পিতাকে হত্যার পর আপামর জনসাধারণ উন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ছয় বছর পর প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আমি দেশে ফিরে আসি। সেই সময়ের খুনিরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। কারণ তাদের বিচার না করতে ইনডেমনিটি জারি করা হয়েছি। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ৮১ সালে বাংলাদেশে আসার পর আমি পুরো দেশ ঘুরে বেড়াই। মাইলের পর মাইল হেঁটে, ভ্যানে চড়ে বা নৌকায় করে ঘুরে দেখেছি। মানুষের অবস্থা জানার চেষ্টা করেছি। ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় আসি। তবে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় না থাকার কারণে উন্নতি করতে পারিনি। এবারই আমরা টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলাম। এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আগে দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো ছিল না। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাজেট ৭-৮ গুণ বাড়াতে পেরেছি। টানা ক্ষমতায় থাকার কারণেই এটা করতে পেরেছি। তবে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল মোকাবিলা করতে হয়েছে। তারা পুলিশ সদস্যদেরও হত্যা করেছে। আমরা এসব মোকাবিলা করেই কাজ করছি।’

শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কিন্তু কোনো গ্রেফতার করার এখতিয়ার নেই। মাঝখানে আমরা শুনেছিলাম তারা গ্রেফতার করতে হলে কিন্তু তাদের আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকেই বলতে হবে। তারা কেবল নির্দেশ দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘কিন্তু তারা ধরে রেখে ওখানে হাজতখানা বানাবে আর হাজতে রাখবে, এটা কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ না। যার যার কাজ তার তার করতে হবে। এই কথাটা মাথায় রাখতে হবে।’

পুলিশ সদস্যদের একটি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি কমিশনে ইতিমধ্যে কিন্তু পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর অন্য জায়গাগুলোতে আমিও মনে করি সেখানে পুলিশের প্রতিনিধি থাকা দরকার। সেটা আমরা ব্যবস্থা নেবো।

এসময় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

সারাদিন/৬জানুয়ারি/টিআর