বদলে গেছে সদরঘাট

বিশেষ প্রতিনিধিবিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, ২১/১১/২০১৯

বদলে গেছে সদরঘাট এলাকা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও হকার মুক্ত পন্টুন এলাকা দেখে যাত্রীরা খুশিতে আত্মহারা। আর নৌকা গুলো পন্টুন এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূল টার্মিনালে ভবঘুরেদের আনাগোনা নেই।

সদরঘাট নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তারা দেড় বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এখন যাত্রী ও স্থানীয়রা এর সুফল পাচ্ছেন। মনেই হয় না এটি আগের সেই নোংরা এলাকা। আর এই পরিচ্ছন্ন এলাকার অবস্থা ধরে রাখতে ৩২টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দিয়ে সব সময় নজরদারি করা হচ্ছে। যাত্রীরাও বর্তমান ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

আবুল আসাদ নামের এক যাত্রী এই প্রতিবেদককে বলেন, আগে এই এলাকায় আসলেই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, হকারদের দৌরাত্ম্য, কুলিদের হয়রানিসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পদে পদে ভোগান্তি দেখা যেতো সব সময়। তবে এই সময়ে এসে এই টার্মিনালকে আধুনিক টার্মিনালে রুপান্তর করেছে বর্তমান সরকার। যা আমরা কখনও ভাবি নি। তবে নদী দূষণ না হলে এই টার্মিনালকে আরো আধুনিক টার্মিনাল মনে হতো।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মূল টার্মিনালের পন্টুনে হকার নেই। যাত্রীদের জিনিসপত্র বহন করছে এখন তিন ধরনের কুলিরা। তাদেরও পোশাক ভিন্ন। এই মালামাল নিয়ে আসা যাওয়াতে তাদের মধ্যে প্রতিযোগীতা ও টানাহেঁচড়া নেই। তবে বিষয়টা যাত্রীদের মধ্যেও বেশ আলোড়িত হচ্ছে। আসলে সেই এলাকা এখন অনেকটা সুনসানই বলা চলে। নির্ধারিত গন্তব্যে রওনা করার আগে কোনো হয়রানি ছাড়াই যাত্রীরা লঞ্চে উঠে যাচ্ছেন। দক্ষিনবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীরা অনেকটা নির্বিঘ্নেই লঞ্চ থেকে নেমে যে যাঁর গন্তব্যে যাচ্ছেন। মূল টার্মিনালে ঢুকতেই দেখা গেছে, ভবঘুরেদের আনাগোনা নেই। সিসি ক্যামেরায় এমন কাউকে দেখা গেলে তখনই তাকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।

বরিশাল থেকে আসা তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রায় চার বছর পর ঢাকায় আসলাম। সদরঘাটের পরিচ্ছন্নতা ও পন্টুনে হকার না দেখে বেশ অবাক হয়েছি। আসলে সবসময় বন্দর কর্তৃপক্ষকে এই পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করছি।

মেরাজুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সদরঘাট টার্মিনালের মূল ভবন থেকে পন্টুন পর্যন্ত খালি জায়গায় একসময় নৌকা, ভাসমান দোকান ও বর্জ্যে ছিল ভরপুর। এ অংশ পরিচ্ছন্ন করে ভাসমান দোকান ও ডিঙিনৌকা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুরোনো টার্মিনাল ভবন (টার্মিনাল ভবন-১) ও নতুন টার্মিনাল ভবনের (টার্মিনাল ভবন-২) নিচতলায় তিনটি শৌচাগার বেশ পরিচ্ছন্ন। নিচতলায় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর কক্ষ ও মেডিকেল সেন্টার করা হয়েছে। তবে মেডিকেল সেন্টারটি বন্ধ রয়েছে।

পুরোনো টার্মিনাল ভবনের ভেতরে বেশ কয়েকটি দোকান ছিল। টার্মিনালের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এসব দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভেঙে ফেলা ওই দোকানগুলোর সামনে নদীতীরে হরেক রকমের ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। এর কয়েকটিতে ফুলও ফুটেছে। টার্মিনাল ভবনের দক্ষিণ দিকে সড়কের পাশে বাগানবিলাসসহ নানা প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। নতুন টার্মিনাল ভবনের পশ্চিম দিকে খালি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছিল মোবাইল মার্কেট। ওই মার্কেট উচ্ছেদ করে সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সদরঘাটের সামনের সড়কটিও দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সদরঘাটের সামনের সড়কটিও দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদী থেকে একসময় আহসান মঞ্জিলের সৌন্দর্য চোখে পড়ত না। সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সামনের সড়কে থাকা ফুটপাত অবমুক্ত এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করায় বুড়িগঙ্গা থেকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যাচ্ছে। তবে আহসান মঞ্জিলের পর থেকে বাদামতলী পর্যন্ত মূল সড়কে পার্কিং করে রাখা মালবাহী ট্রাকগুলো সরানো সম্ভব হয়নি।

এসব প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ-এর যুগ্ম-পরিচালক ও ঢাকা নদীবন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, যাত্রী পরিবহনের দিক দিয়ে সদরঘাট দেশের সবচেয়ে বড় নদীবন্দর। এ বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে লোকমুখে প্রচলিত বদনাম ছিল, ‘ওপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট’। আমরা এই বদনাম ঘোচাতে দেড় বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। যাত্রীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন, তাই করার চেষ্টা করছি।