কাসেম সোলাইমানির লাশবাহী কফিন এখন ইরানের আহভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, ০৫/০১/২০২০

মার্কিন হামলায় নিহত ইরানের আল-কুদস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানির মরদেহ ইরানে পৌঁছেছে। রোববার (৫ জানুয়ারি) সকালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাবে তার কফিন পৌঁছালে তাতে শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। ইরানের আহভাজ শহরে এত মানুষ এর আগে কখনো দেখা যায় নি।

সোলাইমনির মৃতদেহ ইরানে পৌঁছানোর আগে থেকেই গ্রাম, শহর সর্বত্র শোকের ছায়া বিরাজ করছে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার খুব সকালে ইরাক থেকে তার মৃতদেহ ইরানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বাধভাঙা ঢল নামে রাজপথে। শোকার্ত এসব মানুষ কালো পোশাক পরা। হাতে ধরেছেন সবুজ, সাদা আর লাল রঙের পতাকা। শহীদের রক্তের রঙকে বুঝানোর জন্য এমন রং ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্র: ইরানের অনলাইন তেহরান টাইমস।

বাকিদের হাতে নিহত সোলাইমারির পোট্রেট ছবি। মানুষে মানুষে এতটা গাদাগাদি যে তাদের তিল ধারণের ঠাঁই হচ্ছিল না। এতে বলা হয়, আজ রোববার সোলাইমানের মৃতদেহ ইরানে গিয়ে পৌঁছে। সেখান থেকে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আহভাজে।

শহীদের রক্ত আঁকা সবুজ, সাদা ও লাল রঙের পতাকা উত্তোলন করা একটি চত্বরে শোকগ্রস্ত মানুষ জড়ো হয়েছেন। এসময় তাদের বুক চাপড়ে মাতম করতে দেখা গেছে। কারো কারো হাতে নিহত জেনারেলের ছবিও ছিল। সূত্র: গার্ডিয়ান

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় দেখা গেছে, জেনারেল সোলাইমানির জানাজায় অংশ নিতে ব্যাপক মানুষের ঢল নেমেছে। আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা থেকে শুরু করে সব ধরনের মানুষের রাস্তায় নেমে এসেছেন। এতে ইরাক-ইরান যুদ্ধে নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। এরপর তার মরদেহ তেহরানে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে তার নিজ শহর কেরমানে নিয়ে গিয়ে মঙ্গলবার তার দাফন হবে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর মার্কিন হামলায় নিহত হন ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিস।

এতে মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত নতুন করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টুইটারে ট্রাম্প বলেন, সোলাইমানির হত্যার প্রতিশোধ নিতে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর দুঃসাহসের কথা বলছে ইরান।

এদিকে ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিবও ইরানের সম্ভাব্য ২৫ লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স। ইরানের বিপ্লবী গার্ডস কমান্ডার জেনারেল গোলাম আলী আবু হামজাহর উদ্বৃতি দিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

সারাদিন/৫জানুয়ারি/টিআর