বানারীপাড়ায় মানবিকতার আরেক নাম ‘এএসআই জাহিদ’

জাকির হোসেন (বানারীপাড়া)জাকির হোসেন (বানারীপাড়া)
প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ণ, ০৪/০১/২০২০

বার বার মানবতা সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন বানারীপাড়া থানায় কর্মরত এ এস আই জাহিদ। তিনি নিরলস ভাবে জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যেখানেই কেউ অসহায়, সমস্যায় পড়ছেন-সেখানেই জাহিদ ছুটে যাচ্ছেন। কোনো জন প্রতিনিধি না হয়েও নিজের মনের জায়গা থেকে নিজ বাবার মত মানবতায় কাজ করে যাচ্ছেন।

শনিবার (০৪ জানুয়ারি) সারাদিন ডট নিউজ-এর সাথে আলাপচারিতায় এসব নিজের কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে বলেছেন।

এদিকে মানবিকতায় অনন্য বানারীপাড়া থানার এই কর্মরত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম বানারীপাড়া বাসীর কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত ও জনপ্রিয় একটি নাম। অসহায় ও দুঃখী মানুষের বন্ধু এএসআই জাহিদের অসহায়দের পাশে থাকার কথা, সহযোগিতার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বদৌলতে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জাহিদ বলেন,  বাবার মত “মানুষ মানুষের জন্য”– এ নীতি বাক্য হৃদয়ে ধারণ করে চলছি। সমাজের কোনো অসঙ্গতি চোখে ধরা পড়লে দূর করার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করি। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য আমি কাজ করি।’

পুরস্কার গ্রহণ করছেন এএসআই জাহিদ: ছবি সারাদিন ডট নিউজ

এদিকে মাহফিলের মুসল্লিদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করা, আবাসনে অসহায়দের রাতের খাবার ব্যবস্থা করা, জুম্বদ্বীপে পা হারানো অসচ্ছল ব্যক্তিতে হাসের ফার্ম করে দেয়া, রাস্তা সংস্কার সহ অগণিত সমাজকল্যাণ মূলক কাজের পাশাপাশি পীড়িত ব্যক্তির কাছে ছুটে যাওয়ার ব্যাপারে এলাকায় বেশ জনশ্রুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সামর্থ্যানুযায়ী তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।’

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু বরণ করা বানারীপাড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সকলের সুপরিচিত জগদীশের লাশের পাশে ছুটে যান জাহিদ। পরিবার ও বন্ধু-স্বজনদের কাছে জগদীশের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কথা শুনে তার মনটা কেঁদে ওঠে। তিনি জানতে পারেন অসচ্ছল হলেও লজ্জায় কখনো কারো কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি জগদীশ। জগদীশের অসহায় ছেলে জয় যখন চোখে অন্ধকার দেখছিল ঠিক তখনই এএসআই জাহিদ তাকে ভরসা দেন এবং জয়ের পিতার মৃতদেহ সৎকারের যাবতীয় খরচ তিনি বহন করেন।

উল্লেখ্য, এসআই জাহিদুল ইসলাম একের পর এক জনহিতকর কাজ করে বানারীপাড়াবাসীর হৃদয় জয় করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। তার এসব জনহিতকর কাজের জন্য তিনি ইতোমধ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তাঁর ইচ্ছা, বাবার মতো মানুষের পাশে থেকে মানুষকে সহায়তা করে যাবেন।

সারাদিন/০৪ জানুয়ারি/আরএইচ