সেই ছাত্রনেতা রানার সুখবর!

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, ২১/১১/২০১৯

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মতিয়ার হোসেন রানার ও তার পরিবারের সব দায়িত্ব নিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। তার সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ সহ প্রতিমাসে একটি সম্মানী দিবেন বলে জানান এই নেতা।

গত ১৬ নভেম্বর মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন ছিল। সেদিন পুরো মিরসরাই সাজে অন্যরকম আমেজে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের শেষ কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছিল।তারপর এই ২০১৯ সালের কাউন্সিল ছিল। তাই এই কাউন্সিলে তৃণমূল আওয়ামী লীগের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

কিন্তু বিধি বাম ! সম্মেলনের সকল আগ্রহ থেকে এক মলিন নীরব মুখের ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। সেই ছবি হাজার হাজার শেয়ার হয়। সাবেক ও বর্তমান ছাত্র নেতাদের হৃদয় হু হু করে উঠে। সবাই বিভিন্ন ভাবে লিখেন সবার মনের ক্ষোভ-দু:খ।  তিনি হলেন দলের দু:সময়ের কান্ডারি সাবেক তুখোড় ছাত্র নেতা মোতাহের হোসেন রানা।

অনেকে লিখেন সেই কাউন্সিলে উনাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি অসম্ভব ভালোবাসায় তিনি মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালের মাঠে গিয়ে সকাল ১০টায় হাজির হন। কেউ কেউ লিখেছেন সেই সম্মেলনের বিরিয়ানিও নাকি উনার কপালে জুটে নাই।

তবে এই সবটুকু আলোচনার সুযোগে উঠে আসে আরেকজন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীর নাম। যিনি নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নির্যাতিত ত্যাগী আর অবহেলিত দুঃসময়ের সাবেক নেতা কর্মীদের জন্য। তিনি হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।

এ প্রসঙ্গে নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, আমি একজন সমাজ সেবক হিসেবে মিরসরাইতে কাজ করছি ২০১২ সাল থেকে। মিরসরাইবাসীর সাথে দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে আমি এই মোতাহার হোসেন রানা ভাইসহ আরোও কিছু আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারিদের খবর পাই যারা সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বা জেলা ছাত্রলীগের কিংবা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এদের সবাই আওয়ামী লীগের জন্য এমন ত্যাগ স্বীকার করেছেন যা বর্তমানে খুবই বিরল।

এলিট আরো বলেন, গত বছরের ১৫ই জুনে রমজানের ঈদে আমি এই সকল ত্যাগী নেতাদের লিস্ট করে ঈদের জন্য আমার পক্ষ থেকে সামান্য উপহার তুলে দিই। যাতে সাচ্ছন্দে ঈদ উৎযাপন করতে পারেন। উনাদের জন্য এই সামান্য টুকু করতে পেরে আমিও অনেক তৃপ্তি পেয়েছিলাম। তবে আমার সেই সামান্য কাজ টুকু তখন সহ্য হয়নি তৎকালীন মন্ত্রীর। উনি আমার সেই ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কর্মীদের হয়রানি করতে থাকেন। এমন একজন কর্মী ঈদের আনন্দ বঞ্চিত হয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আমার কাছে আশ্রয় নেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সেই ত্যাগী আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের সাহায্য সহযোগিতায় অংশীদার হতে স্থানীয় কর্মীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কারণ সাহায্যের পরক্ষণে নিজ দল আওয়ামী লীগ থেকেই হামলা মামলা কিংবা মাদক কারবারি বানানো হত।

এলিট বলেন, কিছু দিন আগে ২০১৯ সালে মে মাসে আবার খবর আসে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মোতাহার হোসেন রানাও ভালো নেই। নিদারুণ অর্থ কষ্ট নিয়ে দিন যাপন করছেন। চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তখন আমি নিজ উদ্যোগে জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক কে মোতাহার হোসেন রানা ভাইয়ের বাড়িতে পাঠাই। রানা ভাইয়ের সাথে আমি মোবাইলে কথা বলি। উনাকে সর্বোচ্চ সাহায্যের আশ্বাস দিই।

তিনি আরোও বলেন, রানা ভাই কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। দেশে বিদেশে অনেকের রানা ভাইয়ের জন্য মন খারাপ। সবাই ব্যথিত, মর্মাহত। তিনি আরো বলেন, মোতাহার হোসেন রানা ভাইয়ের দায়িত্ব আজ থেকে আমি নিলাম। উনার সন্তানদের পড়ালেখার খরচ, উনার চিকিৎসা খরচসহ আমি তাঁকে প্রতি মাসে একটি সম্মানী প্রদান করবো। যা উনার নিজের ব্যক্তিগত হিসাবে জমা হবে। আর মোতাহার হোসেন রানা ভাইয়ের বাড়ীটি আমি সংস্কার করে দিবো যাতে উনার আগামী দিনে বাসস্থানের সমস্যা সমাধান হয়। আমি উনাকে একটি পাকা বাড়ী করে দিবো। এছাড়া ও মোতাহার হোসেন রানার যখন যা লাগবে আমি তার ব্যবস্থা করবো ইনশাল্লাহ।

প্রসঙ্গত মোতাহার হোসেন রানা ছিলেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী মঈনু- ইকবাল পরিষদের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবি জসীম উদ্দীন হলের বাদশা-মোক্তার প্যানেলের নাট্য ও সামাজিক অনুষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক এবং হল শাখা ছাত্র লীগ সভাপতি। ১৯৯০ সালে সামরিক জান্তার সময়ে তিনি বর্তমান আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সাথে ৬৪ জেলা ছাত্রনেতা হিসাবে ঘুরেছেন। উনার অনলবর্ষী বক্তৃতা অনেকে তখন মন্ত্রের মত মুগ্ধ হয়ে শুনতেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা নিয়মিত ছাত্র ছিলেন।