ইরানের কাসেম সোলেমানিকে হত্যা, মধ্যপ্রাচ্য বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়লো

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৪ অপরাহ্ণ, ০৪/০১/২০২০

মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রচণ্ড সংঘাতে উত্তপ্ত সিরিয়া, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিন। এর মধ্যে ইরানের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি, সমর প্রকৌশলবিদ ও সেনা কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানি ও ইরাকের মিলিশিয়া বাহিনী শীর্ষ নেতা আবু মাহদি আল মুহানদিসের হত্যা সেই উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়লো।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার মাধ্যমে যুদ্ধের হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্য। এমন আশঙ্কা জানিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যৎ পরিণতির কথা না ভেবেই সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানি সমরবিদ সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর সৃষ্ট উত্তেজনার পারদ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এমনকি মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে বলেও মনে করছেন অনেকে।

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড বাহিনীর বিদেশ শাখা, অভিজাত কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ যখন তরতর করে উপরে উঠছে, তখন বিশ্লেষকরা ব্যস্ত বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ মেলাতে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, জেনারেল কাসেমিকে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাদের মতে, এ পদক্ষেপের কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার ক্ষীণ সম্ভাবনাও দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর মোহাম্মদ মারান্ডি বলেন, ইরান এবং ইরাক দুটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। জেনারেল কাসেমিকে ইরানিরা বীর হিসেবে মান্য করে। তাই ইরাকের অভ্যন্তরে ইরানি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার থেকেও বড় কিছু। আমার মনে হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষদ বিবেচনা না করে, তড়িঘড়ি করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে পশ্চিমাপন্থী বিশ্লেষকরা বলছেন, কাসেমি নিহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের চালানো ছদ্মযুদ্ধে ভাটা পড়বে। আর এতে ওই অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই কমবে ইরানি প্রভাব।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক প্রফেসর উজি রাবি বলেন, এটাকে খুব নাটকীয় একটা ঘটনা বলা চলে। জেনারেল সোলাইমানি ছিলেন আরব বিশ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি প্রভাব বিস্তারের প্রধান স্থপতি। তাই তিনি নিহত হওয়ার পর, ইরানকে এখন যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে চিন্তা করতে হবে। আমি মনে করি, আগামী কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ ঘটনার গতিবিধি বোঝা যাবে। তবে এ কথা সত্য, মধ্যপ্রাচ্য বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়লো।

অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, কাসেমি হত্যাকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিশ্বব্যাপী। বিশেষ করে, এ ঘটনার পর বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ পল পং বলেন, আমি মনে করি ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের সাধারণ মানুষই নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হয়তো এটা বিশ্বযুদ্ধে রূপ না নিয়ে সর্বোচ্চ আঞ্চলিক যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু এর প্রভাব পড়বে বিশ্বব্যাপী। তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে এরই মধ্যে বেশ কিছু দেশের শেয়ার বাজারে ধস নামতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কাসেমির অনুপস্থিতির সবচেয়ে বড় সুযোগ নেবে প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়া আইএস জঙ্গিরা। আর সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের হামাস। অন্যদিকে সমরবিদ জেনারেল কাসেমির যোগ্য উত্তরসূরী ইরান খুব দ্রুত খুঁজে পাবে না বলেও ধারণা অনেকের।

সারাদিন/০৪ জানুয়ারি/আরটিএস