বড় বার্তা আসছে বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতাদের জন্য

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, ০৩/০১/২০২০

ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শনিবার (৪ জানুয়ারি)। এতে ছাত্রলীগের বড় জমায়েত হবে। আর যারা অপকর্মে জড়িত রয়েছে ও বিতর্কিত কোনো ধরনের কোনো কিছু করেছে, তাদের জন্য বড় বার্তা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

তবে কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের বিতর্কিতদের দায় সরকার নেবে না’।

শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে নেতা কর্মীদের দেয়া হবে কঠিন বার্তা।

এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আবরার হত্যা এবং রাজশাহী পলিটেকনিকে অধ্যক্ষকে যে ছাত্রলীগ কর্মীরা অপমান করেছে এমন নেতা ও কর্মী আমাদের দরকার নেই।

গেলো বছর টেন্ডার, চাঁদাবাজি, কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, সামনের সময়গুলোতে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বছর জুড়ে চলবে বিভিন্ন ওরিয়েন্টশন প্রোগ্রাম।

লেখক ভট্টাচার্য আরও বলেন, একটি পরিবারের কোন সদস্য যদি অপরাধ করে তাহলে পুরো পরিবারই বদনামের স্বীকার হয়। তাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কোন কর্মী যদি অপকর্মে লিপ্ত থাকে তাহলে তা ছাত্রলীগ পরিবারের উপরই বর্তায়।

এসম্পর্কে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ড হওয়ার পর কিন্তু আমরা কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করিনি। যারা দোষী ছিল প্রত্যেককে আমরা বহিষ্কার করেছি। প্রশাসনকেও আমরা অনুরোধ করেছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। আমরা সবসময়ই বলে এসেছি যেই কোন অন্যায় বা অপকর্মে লিপ্ত হবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কখনই তাদের প্রশ্রয় দেবে না।

তবে সংগঠনের সাবেক নেতারা মনে করেন, ব্যক্তির দায় সংগঠনের উপর বর্তায় না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর ব্যাপারী বলেন, ২৭ বছরের নিচে যাদের বয়স তারাই ছাত্রলীগ করে, ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা শিশুর ভূমিকায় আছে। ছোটরা ভুল করলে তা শোধরিয়ে নেয়াই আমাদের কর্তব্য। তারা প্রতিনিয়ত শোধরিয়ে যাচ্ছে, এভাবে সামনে এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যয়।

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণার ইঙ্গিতও দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘তাদের পূর্ণ দায়িত্ব দেয়ার কোন গঠনতান্ত্রিক সুযোগ নেই। তাই অতি শীঘ্রই তাদের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা দেয়া হবে।’

তবে যেকোন পদে থেকেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান, ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা।

সারাদিন/৩জানুয়ারি/টিআর