নতুন বছরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ভিজছে রাজধানী

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ১২:২০ অপরাহ্ণ, ০৩/০১/২০২০

ইংরেজী নতুন বছরে শুরুতেই রাজধানীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। তবে পৌষের মাঝামাঝি সময়ে এই বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) রাত তিনটা থেকে রাত চারটা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়। পরে দুইঘন্টা বৃষ্টি হয়নি। আবারও ভোর ছয়টা থেকে নিউজ লেখা পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝেমধ্যে আকাশ মেঘলা থাকলেও সূর্যের দাপট ছিল বেশ। কিছুটা কমেছিল ঠান্ডার প্রকোপ। তবে শুক্রবার থেকে ঠান্ডা বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে স্থবিরতা নেমেছে। কর্মজীবী মানুষদের ঘর থেকে বের হতে বেগ পেতে হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, শুক্রবার সারাদিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এতে তাপমাত্রা ৩-৪ ডিগ্রি কমে আসতে পারে।

ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) ছিল ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল তেঁতুলিয়ায় ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ছিল ঢাকায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, জানুয়ারির শুরু থেকে বৃষ্টি হতে পারে। চলমান বৃষ্টিতে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে রোববার (৫ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, শনিবার (৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে বৃষ্টি হতে পারে। শৈত্যপ্রবাহের ব্যাপারে তিনি বলেন, রোববারের (৫ জানুয়ারি) পর থেকে দেশের অধিকাংশ স্থানেই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।

শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকার রাস্তা বের হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রতিদিনের মতো তুরাগ বাসে রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যাচ্ছিলেন একটি শপিংমলের সিকিউরিটি গার্ড আব্দুল করিম। তিনি সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, বৃষ্টিপাতে খিলক্ষেতের নামাপাড়ায় রাস্তায় পানি জমে গেছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে ছুটির দিন হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষই বের হয়নি। ফলে বেশ ফাঁকাই রয়েছে রাজধানী শহর। নেই কোনো যানজটও।

জীবিকার টানে এই শীত-বৃষ্টিতেও বের হয়েছেন কিছু রিকশাচালক। আসাদ নামের একজন সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, আকাশের এই বৃষ্টির অবস্থা দেখে আজ বেরই হতে চাইনি। তবে বাচ্চা-বউ এর জন্য বের হয়েছি। এতে আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। একদিকে ঠান্ডা বাতাস আর আরেক দিকে বৃষ্টি।

আবহওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসেই সারাদেশে দুইটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে ও একটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ আসবে। শুক্রবারের (৩ জানুয়ারি) পর থেকে দেশের তাপমাত্রা কমতে থাকবে। ৬ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারির মধ্যে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে। মাসের মাঝামাঝিতে জেঁকে বসতে পারে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। মাসের শেষদিকে আবারও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওযার সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কনকনে শীত অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রভাব বেশি থাকবে।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলতে রাতের তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকবে। ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং আট থেকে ১০ ডিগ্রি হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়।

সারাদিন/৩জানুয়ারি/টিআর