অর্থমন্ত্রী হিসাবে ‘মুস্তফা কামাল’ বিশ্বে সেরা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, ০২/০১/২০২০

গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ওয়ার্ল্ডে ভূষিত করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে। তাকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস পত্রিকা ‘দ্য ব্যাংকার’ হিসাবে নির্বাচিত করেছে। এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো অর্থমন্ত্রী এই পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লন্ডন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বনামধন্য ফাইন্যানন্সিয়াল টাইমস গ্রুপের মাসিক ম্যাগাজিন ‘দ্য ব্যাংকার’ পত্রিকা ২০২০ সালের জন্য ‘ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার ফর এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ এ ভূষিত করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে।

অর্থমন্ত্রীদের আর্থিক খাতে গতিশীলতা আনয়নসহ দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপসহ সার্বিক বিবেচনায় এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়ে থাকে। এশিয়া-প্যাসিফিক, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ- এই পাঁচটি অঞ্চল থেকে পাঁচ জন অর্থমন্ত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকে বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়।

‘দ্য ব্যাংকার’ পত্রিকাটি ১৯২৬ সাল হতে প্রকাশিত হচ্ছে, যা পৃথিবীর ব্যাংকিং সেক্টরের ইন্টেলিজেন্স হিসেবে খ্যাত। তারা ‘ফাইন্যান্স মিটিস্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারটি ২০০৪ সাল থেকে প্রচলন করেছে।

গত বছর এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী, তার আগের বছর ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনা’র অর্থমন্ত্রী ‘ফাইন্যান্স মিটিস্টার অব দ্য ইয়ার’ হয়েছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বিরল এ পুরস্কারটি দেশের সর্বস্তরের সকল জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেই এটি অর্জিত হয়েছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি ২০১৪-২০১৮ সময়কালে সফলভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসাবে তার দায়িত্ব পালন করেন। অর্থমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তিনি চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে সচল রাখা ও আর্থিক খাতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনয়নে বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন যা অচিরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাসহ ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে।

পরপর তিনটি অর্থবছর ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ার পর গত বছর ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তারকারী শীর্ষ ২০টি দেশের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধি টেকসই করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছর অনেকগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।

‘দ্য ব্যাংকার’ পত্রিকা কর্তৃক গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার ভূষিতকরণের বিষয়টি অর্থমন্ত্রী হিসাবে তার এ সকল কার্যক্রমের সঠিকতা ও সাফল্যর একটি স্বীকৃতি। এর ফলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশর ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি আরো উন্নত হবে।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে দলটি। গত বছরের ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায়ও আনা হয় চমক। নতুনদের জায়গা দিতে বাদ দেয়া হয় কয়েকজন হেভিওয়েট মন্ত্রীকে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার পরিবর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর আগে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অর্থমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে অর্থ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রয়েছে। একটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও প্রয়োগের দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে তত্ত্বীয় জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক বা বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কাউকেই নতুন অর্থমন্ত্রী বানানো জরুরি। এ জন্যই আ হ ম মুস্তফা কামালকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেয়া হয়।

আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও ক্রিকেট সংগঠক। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এছাড়া মুস্তফা কামাল ২০১৪-১৫ মেয়াদে আইসিসির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আইসিসির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনের আগে তিনি সেপ্টেম্বর, ২০০৯ থেকে অক্টোবর, ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে ২০১২-২০১৪ মেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। তিনি আইসিসির অডিট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ থেকে ২০১২ মেয়াদকালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের ২৬ মে আইসিসির ১১তম সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের মানের বিষয়ে তিনি সংক্ষুব্ধ হন ও পদত্যাগের হুমকি দেন। এরপর ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

বিস্তারিত এই লিঙ্কে….

সারাদিন/২জানুয়ারি/টিআর