বিশ্ব ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতির প্রায় শেষ পর্যায়ে

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, ০২/০১/২০২০

দুই ভাগে বিভক্ত বিশ্ব ইজতেমার এবার প্রথম ধাপের ইজতেমা শুরু হবে ১০ জানুয়ারি। আর এখন ইজতেমার মাঠ প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষের পথে। রাজধানী, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ সহ নানা এলাকার তাবলিগ জামাতের সাথীরা প্রতিদিনই এসে মাঠের কাজ স্বেচ্ছাশ্রমে করছেন। তবে সেখানে ইজতেমাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর রয়েছেন। এছাড়া ইজতেমার কামারপাড়া এলাকায় তুরাগ নদে ভাসমান সেতু তৈরি করতে দেখা গেছে সেনাবাহিনীর সদস্যদের।

২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাবলিগের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিরোধী হিসেবে পরিচিত মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা ইজতেমা পালন করবেন ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি। আর সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা ইজতেমা পালন করবেন ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি। এবার কোনো পক্ষেরই ‘জোড়’ (পাঁচ দিনের প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ) ইজতেমার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়নি।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ও বুধবার (১ জানুয়ারি) টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে ইজতেমা ময়দান সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবীরা মাঠ প্রস্তুতির কাজ শেষ করছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মুসল্লিরা কেউ মাটি কাটছেন, কেউ সেই মাটি বস্তায় ভরে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় থাকা গর্ত ভরাট করছেন। কেউ তাঁবু টানানোর কাজ করছেন, কেউ শৌচাগার নির্মাণ করছেন, কেউবা পরিষ্কার করছেন মাঠে থাকা ময়লা–আবর্জনা।

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামী ১০ জানুয়ারী শুরু হবে ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। তিনদিনের মধ্যেই সকল প্রস্তুতি শেষ হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জয়নুল বারী।

দুই পর্বের ইজতেমার প্রথম পর্ব হবে জানুয়ারির ১০ তারিখ (শুক্রবার) থেকে। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মাঠের অধিকাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ছামিআনায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে ইজেতেমা ময়দান।

সম্প্রতি ইজতেমার প্রস্তুতির কাজ পরিদর্শনে আসেন মোহাম্মদ জয়নুল বারী। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, ইতিমধ্যে ইজতেমা মাঠের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন বিদ্যুৎ সংযোগ ও রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। ৫ জানুয়ারির মধ্যেই ইজতেমার সব প্রস্তুতি শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইজতেমা ময়দানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুরুব্বী ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হাসান হান্নান সেসময় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে জানান ইজতেমা ময়দানের পশ্চিম পাশে কিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে ময়দানে মুসল্লিদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান তিনি।

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, ২০ জন টুপি-পাঞ্জাবী পড়ারা বাঁশ কাটছেন। কাটা বাঁশগুলো সারি বেঁধে তাঁবুর কাছে নিয়ে যাচ্ছেন অন্য মুসল্লিরা। এরপর চট দিয়ে পরস্পরের সহযোগিতায় নির্মাণ করছেন শামিয়ানা। গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে আসা ১৩ জনের একটি দল সম্প্রতি তুরাগ নদের পাড়ে টিন দিয়ে ঘর তৈরি করছিল।

জানতে চাইলে দলের একজন মো. কামাল হোসেন বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের যাতে কোনো কষ্ট না হয়, সে জন্য সবাই ছুটে এসেছেন। সবাই এখানে স্বেচ্ছাশ্রমিক, কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ১৯৬৩ সাল থেকে। জানুয়ারি ১০ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইজতেমা হবে ৫৭তম। ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইজতেমা তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত হতো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা এই ইজতেমায় অংশ নেন বলে এটি বিশ্ব ইজতেমা হিসেবে পরিচিতি পায়।

পরে মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ২০১০ সাল থেকে দুই দফায় তিন দিন করে ইজতেমার আয়োজন করা হতো। কিন্তু বিরোধের কারণে গত বছর থেকে আলাদাভাবে দুই পক্ষ তিন দিন ধরে ইজতেমার আয়োজন করতে শুরু করে।

সারাদিন/২জানুয়ারি/টিআর