তথ্য প্রযুক্তির বাজার ধরতে আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়নের আহ্বান

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩৯ অপরাহ্ণ, ১৪/১১/২০১৯


জাপানসহ উন্নত বিশ্বের বাজার ধরতে উচ্চশিক্ষায় আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করার জন্য শিক্ষাকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

দ্রুত বিকাশমান ও পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উচ্চশিক্ষার পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। যদিও প্রতি বছর এটি হালনাগাদ করা দুরূহ কাজ। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ টপ আপ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিতে পারে। জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের আইটি ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে সেখানে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) ইঞ্জিনিয়ার ইনফরমেশন টেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ার্স এক্সামিনেশন (আইটিইই) বিষয়ে আজ (১৩ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ) এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। দেশের আইটি ইঞ্জিনিয়ার গ্রাজুয়েটরা জাপানের আইটিইই-তে যাতে ভালো ফলাফল করতে পারেন সে লক্ষ্যে ইউজিসি এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। এর উদ্দেশ্য আগামী ৩ বছরে জাপানে ১০,০০০ আইটি ইঞ্জিনিয়ারের কর্মসংস্থান তৈরি, আইটি ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা বাড়ানো।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ এর সভাপতিত্ব কর্মশালায় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম, ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের মন্ত্রী হিরোইকি ইয়ামায়া, বিসিসির নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অরগানাইজেশনের ঢাকার প্রতিনিধি ইউজি অ্যান্দো বক্তব্য প্রদান করেন।

জুনাইদ আহমেদ পলক আরও বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হতে শ্রমঘন থেকে বেরিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। সরকার দক্ষ মানবসম্পদ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্যে আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি প্রতিটি বিশ্বদ্যিালয়ে গবেষণা ও ইনকিউবেশন সেন্টার এবং বিশেষায়িত ল্যাব চালু করবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালেয় শিক্ষকদের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার আহবান জানান।

সভাপতির ভাষণে প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, গত এক দশকে প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে চাকরির শর্তাবলিতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের স্নাতকদের বিশ্ব বাজারের জন্য প্রস্তুুত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। জাপান আইটি গ্রাজুয়েটদের জন্য বিশাল বাজার উন্মুক্ত করেছে। এ সুযোগের পুরোটা কাজে লাগোতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

ইউজিসি সদস্য ও কর্মশালার আহবায়ক প্রফেসর ড. সাজ্জাদ হোসেন স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আইটিইই মাধ্যমে প্রযুক্তি ও জ্ঞানের বিনিময় ঘটবে, শিক্ষার্থীরাও জনসম্পদে রূপান্তরিত হবে। এটি দেশে তথ্য প্রযুক্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করবে।