এরশাদের ১১ কর্মচারীকে বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ণ, ০১/০১/২০২০

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বারিধারার বাসভবন ‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’ থেকে তার বিশ্বস্ত ১১ কর্মচারীকে বিদায় নিতে হলো। তাঁদের বেশির ভাগই দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে এরশাদের বাসভবনে কাজ করেছিলেন।

শেষ জীবনের প্রায় তিন বছর এরশাদ ছিলেন খুবই অসুস্থ। বিদায়ি কর্মচারীরা জানান, এ সময়ে প্রায় প্রতিদিন শয্যায় মল-মূত্র ত্যাগ করতেন এরশাদ। তাঁকে দেখভাল করার আপন কেউ থাকতেন না বারিধারার বাসায়। মল-মূত্র পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে সাবেক রাষ্ট্রপতির ওষুধ খাওয়ানো এবং সেবাশুশ্রূষা করতেন কর্মচারীরাই।

কর্মচারীরা আরও জানান, মাঝেমধ্যে গভীর রাতে চালকদের ডেকে বেরিয়ে পড়তেন এরশাদ। চিৎকার করে বলতেন, দ্রুত গাড়ি বের করো, বাসায় থাকলে আমি মারা যাব। সে দিনগুলোতে সারা রাত জেগে থাকতে হতো বাসার ১১ কর্মচারীকে।

এরশাদের দুর্দিনে পাশে থাকা ওই কর্মচারীরা চাকরি হারিয়েছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক এরশাদের সন্তান এরিখ এরশাদের মাতৃত্বের দাবি নিয়ে ওই বাসভবনে প্রবেশের পর থেকে তিনি বিদায় দেওয়া শুরু করেন কর্মচারীদের। তাঁদের বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে বারিধারার বাসায় প্রবেশ না করতে।

এরশাদের আস্থাভাজন ওই সব কর্মচারী হলেন গাড়িচালক আবদুল আউয়াল, আজিজুর রহমান ও আবদুল মান্না, ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল ওয়াহাব ও মতিউর রহমান, পাচক ডিউক রোজারিও ও বিপ্লব হোসেন, ক্যামেরাম্যান আবদুস সাত্তার, কাজের বুয়া নিপা ও রুবিনা এবং মালি আতাউর রহমান।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এরশাদের এসব কর্মচারীকে বিদায় দিয়ে বিদিশা সিদ্দিক তাঁর নিজস্ব লোকদের ওই পদগুলোতে নিয়োগ দিয়েছেন। এরশাদের বাসার কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয় এরশাদ গঠিত ট্রাস্ট থেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের পরিচালক মেজর (অব.) খালেদ আকতার বলেন, ‘বারিধারার বাসভবন থেকে এরশাদের বিশ্বস্ত কর্মচারী, যাঁরা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাঁর পাশে থেকে সেবা দিয়েছেন বিদিশা সিদ্দিক তাঁদের সবাইকে বিদায় দিয়েছেন। ব্যাপারটা খুবই দুঃখজনক। আমরা ট্রাস্ট থেকে তাঁদের বেতন দিতাম। এখন বিদিশা তাঁর নিজস্ব লোক নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা বিদিশার লোকদের বেতন দেব কি না? মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেব।’

সারাদিন/১জানুয়ারি/টিআর