চতুর্থ দিনের আমরণ অনশন করছে পাটকল শ্রমিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ণ, ০১/০১/২০২০

মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন করছেন শ্রমিকরা। আর বুধবার (১ ডিসেম্বর) এই অনশন চতুর্থ দিনে পড়েছে। খুলনা-যশোর শিল্পাঞ্চল এলাকায় রাজপথেই রাত-দিন পার করছেন শ্রমিকরা।

এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা নরসিংদী ও রাজশাহীর মিল গেটে এ অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন অসংখ্য শ্রমিক। গত রোববার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ফের আমরণ অনশন শুরু করেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা জানান, দ্বিতীয় দফায় গত রোববার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা। অনশনের তৃতীয় দিনেও বিজেএমসি বা সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শ্রমিকদের আমরণ অনশনের কারণে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে প্রতিদিন উৎপাদনে এক কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলের প্রতিদিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭২ দশমিক ১৭ মেট্রিকটন। সেখানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৮৬ দশমিক ৩৯ মেট্রিকটন। মিলগুলোর প্রতিদিনের উৎপাদিত পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এ ছাড়া মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯টি মিলে উৎপাদিত পণ্য মজুদ রয়েছে হেসিং ৭৭৪ মেট্রিক টন, সেকিং ২৪ হাজার ১৯৩ মেট্রিক টন, সিবিসি তিন হাজার ৮১৭ মেট্রিক টন এবং ইয়ার্ন ৯০ মেট্রিকটন।

এদিকে, নরসিংদীতে অনশনে অংশ নিয়ে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে তিন দিনে তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র শীত উপেক্ষা করে গত রোববার থেকে কাঁথা-বালিশ নিয়ে অনশনস্থলে অবস্থান করছেন জুটমিলটির শ্রমিকরা। দিন-রাত মিলের সামনে চটের (বস্তা) ওপর বসে, শুয়ে ও ঘুমিয়ে দিন পার করছেন তাঁরা।

ইউএমসি জুটমিলের সিবিএ সভাপতি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করার পরও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মানতে কর্তৃপক্ষের কষ্ট হয়। অথচ কর্মকর্তারা লুটপাট করে জুটমিলগুলোকে লোকসানে ফেলছেন।

সারাদিন/১জানুয়ারি/টিআর