নানা দেশে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান নানা ভাবে

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, ০১/০১/২০২০

শুভ খ্রিষ্টীয় নববর্ষ। স্বাগত ২০২০ সাল। নতুন বছরের প্রথম সূর্য উঠেছে বুধবার (১ ডিসেম্বর) সকালে। আর আমাদের দেশে পয়লা বৈশাখই সর্বজনীন বড় উৎসব। তবে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ, যা ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনের কারণে ইংরেজি নববর্ষ হিসেবে পরিচিত হয়েছে এ দেশে।

আর সেটি উদ্‌যাপিত হচ্ছে প্রতিবছর। বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের তাল মিলিয়ে এই নববর্ষ পালন করা। এছাড়া এই খ্রিষ্টীয় সালকে দেশের অভ্যন্তরীণ কাজও করা হয়। তাই এই নববর্ষকে অগ্রাহ্য করা যায় না।

তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে দেশ-বিদেশের নানা ভালো-মন্দ খবর এখন সবার হাতের মুঠোয়। ফলে বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়েও আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি তা একটা ছাপও রেখে যাচ্ছে জীবনযাপনে। বন্ধু, প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, পরিবার ছাপিয়ে তা স্থান করে নিচ্ছে অফিসে, অফিস শেষে আনন্দঘন পার্টির মধ্যে। তাতে বেড়ে উঠছে নববর্ষ-সংশ্লিষ্ট অর্থনীতি। ফেসবুক-মেসেঞ্জার-টুইটার-হোয়াটসআপ-ভাইবারে নববর্ষের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি নানা ধরনের কেনাকাটাও চলছে। নববর্ষ এলে একক দোকান থেকে শুরু করে সুপারমার্কেট পর্যন্ত দোকানিদের মনে জ্বলে ওঠে আশার আলো। বিক্রিবাট্টা বেড়ে যায়। কেউ আবার দিনটিকে আনন্দঘন করে তোলে ভ্রমণে গিয়ে।

পৃথিবীর সব দেশে নববর্ষ একই দিনে হয় না। এশিয়ার অনেক দেশেই নববর্ষ আসে এপ্রিলের দিকে। তবে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদ্‌যাপন করার ক্ষেত্রে দ্বিধা নেই কোথাও।

খ্রিষ্টীয় বছর শুরু হয় রাত ১২টার পর। আনন্দ-উল্লাসের সঙ্গে বছরটা বরণ করে নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে বহু দেশেই।

ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে একই সময় নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয় না। কোথাও তা বসন্তে আসে, কোথাও আসে শরৎকালে। কোথাও শুরু হয় মার্চে, কোথাও এপ্রিলের মধ্যভাগে।

নেপালেরও রয়েছে নিজের নববর্ষ। বসন্তকালেই তারা নববর্ষের যে উৎসব করে, তা বিসকেট নামে পরিচিত। সাধারণত ১০ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলে এই উৎসব।

ভুটানকে ভূস্বর্গ বললে কেউ অবাক হয় না এখন। সে দেশের প্রকৃতিই জানিয়ে দেয়, এ এক অন্য জগৎ। ভুটানের নববর্ষ ইংরেজি নববর্ষের কাছাকাছি সময়েই হয়।

সোভিয়েত রাশিয়ায় ১০ বছর কাটানোর সময় দেখেছি, ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে পার্টির সাধারণ সম্পাদক (পরবর্তীকালে দেশের প্রেসিডেন্ট) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতেন। ঠিক ১২টায় হাতে তুলে নিতেন শ্যাম্পেনের গ্লাস এবং দেশবাসীকে জানাতেন নববর্ষের শুভেচ্ছা।

এবার পানামার কথা বলা যাক। পানামার মতো কানে তালা লাগানো বর্ষবরণ আর কোথাও হয় না। নতুন বছরে তারা নিজেদের বানানো কুশপুত্তলিকা পোড়ায়।

স্পেনবাসী মাঝরাতে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়, সবাই মিলে ঘুরে বেড়ায়। মাঝরাতের আগে ঘড়ি যখন ১২ বার ঢং ঢং করে ওঠে, তখন ১২টা আওয়াজের সঙ্গে ১২টা আঙুর খাওয়ার রেওয়াজ আছে। কিউবায়ও একইভাবে আঙুর খাওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে।

গ্রিসের মানুষ নববর্ষে অতিথি হয়ে কোথাও গেলে হাতে নিয়ে যায় ছোট ছোট পাথরের টুকরো। বাড়ির মুখে সে পাথর ছুড়ে ফেলে সাফল্য আর টাকাপয়সা আসার মন্ত্র পড়ে। এ দেশের শিশুরা তাদের জুতা খুলে রাখে দরজার কাছে এবং আশা করে, সেন্ট ভাসিলি এসে এই জুতাগুলো ভরে দেবে উপহারে।

কয়েকটি দেশের নববর্ষের উপহার নিয়ে কিছু কথা হোক এবার। সুইডেনে উপহারের কথা ভাবলেই বিষয়টা সামনে আসে, যা এনে দেবে আলো ও উষ্ণতা। তাই সবচেয়ে ভালো উপহার হিসেবে বিবেচিত হয় মোমবাতি। কত রকমের মোম যে সেখানে উপহার দেওয়া হয়, তার হিসাব নেই।

ফরাসি স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য অবশ্যই উপহার হিসেবে সবার আগে পছন্দ সুগন্ধি। তবে বাড়ির অন্য সদস্য ও শিশুদের জন্য থাকে অন্য ধরনের উপহার। জার্মানরা পড়ুয়া জাতি। তাই নববর্ষের উপহার হিসেবে বইটাই তারা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে।

নতুন বছরে সবাই নতুন করেই জীবনকে নিয়ে ভাবে। নতুন সম্ভাবনার দ্বার যেন খুলে যায়, সে জন্য নতুনভাবে তৈরি হয় মানুষ। আজ যে সূর্যটা পুবাকাশে উঠল, তা জানাল নতুনের আহ্বান। নতুন ভাবনায় বলীয়ান হয়ে গা ঝাড়া দিয়ে যে এগিয়ে যেতে পারবে, তারই হবে জয়। পুরোনো জঞ্জাল হটিয়ে দিয়ে তাই আমাদের দেশেও সবাই প্রস্তুত হচ্ছে বছরটিকে বরণ করে নিতে।

সারাদিন/১জানুয়ারি/টিআর