জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, ০১/০১/২০২০

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ৩৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার। এই দল পঁয়ত্রিশ বছরে পা রাখলো। দলের ঐক্য ধরে রাখা এবং প্রকৃত বিরোধী দল হয়ে ওঠাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করে দলটি। ১৯৮৫ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জাতীয় ফ্রন্ট গঠিত করে। সেই ফ্রন্ট বিলুপ্ত করে ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি নামে নতুন দল আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

১৯৮৬ সাল থেকেই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই সময়ের মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন অধ্যাপক এম এ মতিন। ২১ প্রেসিডিয়ামসহ নির্বাহী কমিটির আকার ছিল ৬০১ জন। জোটের শরিক জনদল, ইউপিপি, গণতান্ত্রিক পার্টি, বিএনপি (শাহ),মুসলিম লীগ (সা) ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন সেদিন জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছিল।

সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে গিয়ে প্রথম পৃথক জাতীয় পার্টি (মিম) গঠন করেন মিজানুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। দ্বিতীয় দফায় ভাঙনের শিকার হয় নাজিউর রহমান মঞ্জু ও কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বে। সর্বশেষ পৃথক জাতীয় পার্টি গঠন করেন প্রয়াত কাজী জাফর আহমদ। বর্তমানে জাতীয় পার্টির জাতীয় পার্টি (জাপা), জেপি, বিজেপি ও জাতীয় পার্টি (জাফর) নামে ৪টি ধারা রয়েছে।

চার খণ্ডিত অংশের মধ্যে জাতীয় পার্টি (জাপা) এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অপর দুই অংশ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও জাতীয় পার্টি (জাফর) বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে যুক্ত।

বিগত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। জোট থেকে ২৬টি আসন দেওয়া হয়। আর ১৪৬টি আসন রাখা হয় উন্মুক্ত। জোটগত আসনে ২১টি, উন্মুক্ত ১টিসহ ২২টি আসনে বিজয়ী হন এরশাদের প্রার্থীরা। সংসদে জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৪টি। মোট ২৬ আসন নিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।

এরশাদের মৃত্যুর পর দলের হাল ধরেছেন তারই ভাই প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ কাদের। বিভাগীয় সাংগঠনিক সভা, সাংগঠনিক টিম গঠন ও জেলায় জেলায় সভা সমাবেশের মাধ্যমে ক্ষেত্র বিশেষে জাতীয় পার্টিকে এখন আরও বেশি উজ্জীবিত দেখাচ্ছে।

জিএম কাদের একাধিক সভায় বলেছেন, জাতীয় পার্টির এখন ক্ষয়িষ্ণু দল নয়। জাতীয় পার্টি এখনবর্ধিষ্ণু দল। মানুষ মনে করেছিল এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি ভেঙে টুকরো টুকরো হবে।কিন্তু তা হয়নি, বরং ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ১৯৯১ সালে নির্বাচনে কাস্টিং ভোটের ১১.৯২ শতাংশ পেয়েছিলো জাতীয় পার্টি। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ১০.৬৭শতাংশ, আর ২০০১ সালের ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের ব্যানারে নির্বাচনে ভোট পায় ৭.২৫ শতাংশ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পেয়েছে মাত্র ৭.০৪ শতাংশ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন অংশ নেয়। কিন্তু যে আসনেই জোট ছাড়া নির্বাচন করেছে সেখানেই ধরাশায়ী হয়েছেন দলটির প্রার্থীরা।

জাতীয় পার্টির দুর্গ খ্যাত রংপুর ও গাইবান্ধা থেকেও দিন দিন গুটিয়ে যাচ্ছে দলটি। রংপুর বিভাগের ২২ আসনের মধ্যে মাত্র ৬টি আসনে রয়েছে জাপার এমপি। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলও আশাব্যঞ্জক নয়। মাত্র একটি উপজেলায় জাপার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

সারাদিন/১জানুয়ারি/টিআর