বৈরী কুয়াশায় নীলফামারীতে বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের প্রাণান্ত চেষ্টা

নীলফামারীর ডোমারে টানা কয়েকদিনের তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বোরো বীজতলা হলুদ রং ধারনসহ ফ্যাকাসে রং ধারণ করছে। বীজতলা রক্ষার্থে কৃষকরা নানা ধরনের পন্থা অবলম্বন করে বীজতলা বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। শৈত্যপ্রবাহ, হিমেল হাওয়া, রাতের ঘন-কুয়াশায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বোরো বীজতলা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়,কেবল মাত্র নরম মাটিতে উকি মেরে বেড়ে উঠতে ধরেছে বোরো ধানের চারাগুলো। কিন্তু ঘন-কুয়াশা, হিমেল বাতাসের কারনে চারার সবুজ কচি পাতাগুলো হলুদ হয়ে ফ্যাকাসে,লালচে রং ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে বীজতলাতেই ।

বাগাড়ই ইউনিয়নের কৃষক নুর ইসলাম বলেন,ধানের চারার বয়স কেবল মাত্র ১৫দিন। বীজতলায় ধান ফেলানোর কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হয় শৈত্যপ্রবাহ,ঠাণ্ডা আর ঘন-কুয়াশা। রাতে বেশি শীত পরার কারনে বীজতলার চারাগুলো মরে যাচ্ছে। । শীতকাটা ঔষধ ব্যবহারেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

ডোমার ভারপ্রাপ্ত কৃষি-কর্মকর্তা হাসিনুর ইসলাম জানান, সেচ-নির্ভর বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার একশত ৮০হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বীজতলায় চারার বয়স ৩০ থেকে ৪০দিন হলে সেখান থেকে তুলে জমিতে রোপণ করা হয়। বীজতলায় বোরো ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নের কৃষকের বীজতলা বাঁচাতে ডোমার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ব্যাপক তৎপর আছে । প্রত্যহ কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যে সব বীজতলা হলুদ রং ধারণ করেছে।

সেইসব বীজতলায় প্রতি শতকে দুইশ আশি গ্রাম ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে তিন চার দিনে কাজ না হলে উক্ত পরিমাণ বীজতলায়ং ৪শ গ্রাম জীবসাম প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যাবে। শৈত্যপ্রবাহে বেশী হলে সকাল হতে বিকাল পর্যন্ত স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে। রাতে তিন চার সেন্টিমিটার পানি বীজতলায় ধরে রাখতে হবে। সকালে সেই পানি বের করে দিতে হবে।

সারাদিন/৩১ ডিসেম্বর