ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন নতুন বছরের প্রথম চ্যালেঞ্জ: ওবায়দুল কাদের

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, ৩১/১২/২০১৯

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। আমরা একটি ভালো নির্বাচন করতে চাই। ফলাফল যাই হোক আমরা মেনে নেবো। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নতুন বছরের প্রথম চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা একটি ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য ৷ এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস তিনি দিয়েছেন। জয়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি জানিয়ে কাদের বলেন, আমরা নির্বাচন পরিচালনায় জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি। আমাদের কাজ যথারীতি শুরু হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির কে যে কোন কথা বলে বুঝি না। তাদের একেক জন একেক রকম কথা বলে। তাদের নেতাদের মধ্যে বক্তব্যের কোনো মিল নেই। তারা এলোমেলো হয়ে গেছে। তাদের দলের দুইজন সিনিয়র লিডার দল থেকেই চলে গেছেন নেতিবাচক রাজনীতির জন্য। আমার মনে হয় তারা নির্বাচনে আসবেন ও শেষ পর্যন্ত তারা থাকবেন।

কাদের বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে বাংলাদেশে যে সব নির্বাচন হয়েছে এর মধ্যে বেশিরভাগ বিএনপি জিতেছে। এখানে হারানোর কিছুই নেই। ইভিএম হলে তাদের আরও বেশি করে জেতার সম্ভাবনা থাকতে পারে। নির্বাচনে ইভিএম ত্রুটিযুক্ত মনে করার কোনো কারণ নেই। এর আগে আমাদের দেশে ইভিএম নিয়ে কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি। এ পদ্ধতি দিয়ে ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করা সম্ভব। এনিয়ে সন্দেহের কোনো কারণ নেই।

‘বিএনপির একটি পুরনো অভ্যাস হলো নির্বাচনের আগেই তারা হেরে যায়। তারা নানান অভিযোগ তোলে, আগেই তারা হেরে যাওয়ার অজুহাত খোঁজে এবং জনগণের সামনে তা উত্থাপন করে। নির্বাচনের ফলাফলের পর তোতা পাখির মতো তারা বুলি আওড়াতে থাকে নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে।’

নতুন বছরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করা হবে, এক্ষেত্রে বিরোধীদল একটি বড় পার্ট। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য কোনো মেসেজ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিরোধীদল সব সুযোগ-সুবিধা পাবে। তারা গণতন্ত্র চর্চা করতে পারবে। সভা-সমাবেশ করতে পারবে। স্পিকার তাদের ব্যাপারে যথেষ্ট উদার। সরকারও নমনীয়। বিরোধীদল শক্তিশালী হলে সরকার ও গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। কাজেই বিরোধীদলের জন্য সভা-সমাবেশে আমরা এখনও কোনো কার্পণ্য করছি না, নতুন বছরেও তারা সে সুবিধা পাবে।

বিরোধীদের আস্থার জন্য কোনো উদ্যোগ থাকবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশের বিরোধীদল সরকারের ওপর আস্থা রাখে না। একটি দেশে একটি বিরোধীদল দেখান সেটা প্রতিবেশী ভারত থেকে শুরু করে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকাসহ উন্নত কোনো দেশেই বিরোধীদল সরকারিদলকে আস্থায় নেবে না। তাহলে তাদের রাজনীতিটা কোথায় থাকে।

কাউন্সিলদের মনোনয়নে ক্লিন ইমেজ দেওয়া হবে এ বিষয়ে কতটা করতে পেরেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কিছু কিছু ভুল-ত্রুটি ছিল। সেগুলো নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে সেগুলো আমরা সংশোধন করবো।

এদিকে ২০১৯ সালে সফলতার সঙ্গে নিজের কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সবই সাফল্য এমন দাবি করবো না। কিছু কিছু ভুল-ব্যর্থতাও রয়েছে। এ বছরের ভুল-ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য নবতর পথযাত্রা সূচনা করবো। নতুন আশার মালা গেঁথে আমাদের সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবো। অতীতের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বছরে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবো। আমাদের মেগা প্রকল্পের কাজ আরও এগিয়ে যাবে। সড়ক-পরিবহন আইন বাস্তবায়নে ধাপে-ধাপে পদক্ষেপ নেবো।

সারাদিন/৩১ডিসেম্বর/টিআর