পদ্মা সেতু তিন কিলোমিটারে রূপ নিচ্ছে

পদ্মা সেতুতে ১৯টি স্প্যান বসানো হয়েছে। আর তার দৈর্ঘ্য হয়েছে ২৮৫০ মিটার। তবে প্রতিটি স্প্যান বসানো হয়েছে দেড়শ মিটার পর পর। এবার সেতুর ২০তম স্প্যান বসতে যাচ্ছে এই নদীর ওপর। এর মধ্যে দিতে তিন কিলোমিটারে রূপ নিতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

কুয়াশা বাধা হয়ে না দাঁড়ালে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) পদ্মা সেতুতে ২০তম স্প্যান বসানো হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো একমাসে তিনটি স্প্যান বসতে যাচ্ছে। সেতুর ১৮ ও ১৯ নম্বর পিলারের উপর নতুন স্প্যানটি বসানো হলে দৃশ্যমান হবে প্রায় অর্ধেক সেতু যা পুরো ৩ কিলোমিটার। শীতে কুয়াশা কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি করলেও বড় কোনো বাধা হবে না বলে মনে করেন প্রকল্প পরিচালক।

এর আগে কোনো কোনো মাসে দুটি করে স্প্যান বসানো গেলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি স্প্যান বসানো যায়নি কোনোবারই। তবে কাজে গতি আসায় এবার সেটিও হতে যাচ্ছে। মাসের শেষ দিনে হলেও তাই চলতি মাসেই আরেকটি স্প্যান বসানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

মাঝনদীতে সেতুর ৪ নম্বর মডিউলের ৬টি স্প্যানের মধ্যে আগেই বসানো আছে ৪টি। সব শেষ ১৯তম স্প্যানটিও বসানো হয়েছে এখানে। বর্তমানে দৃশ্যমান চারটির সঙ্গেই যোগ হবে নতুন স্প্যান। মোট ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ২০টি বসানোর মধ্য দিয়ে এবার স্পর্শ করা হবে প্রায় অর্ধেক সেতু দৃশ্যমান করার মাইল ফলক।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুঁটিতে বসানো হয় দ্বিতীয় স্প্যান। এরপর একে একে বসানো হয় আরও ১৭টি স্প্যান।

প্রসঙ্গত, দ্বিতল পদ্মা সেতু হচ্ছে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙার অংশ ধরলে সেতুটি প্রায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ হবে।

খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। প্রতিটি পিলারের রাখা হয়েছিল ছয়টি পাইল। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হবে। ৪২টি খুঁটির ওপর এ রকম ৪১টি স্প্যান বসানো হবে।

চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়নার মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে।

সারাদিন/৩১ডিসেম্বর/টিআর