দেহে পটাশিয়ামের অভাবে কি হয়?

স্বাস্থ্য ডেস্কস্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, ২৮/১২/২০১৯

শরীরের সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কাজ করতে পটাশিয়াম খুব জরুরি। কিন্তু এই পটাশিয়ামের অবাবে শরীরে কী হয়। সাধারণত পটাশিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা ৩.৫ – ৫.০ মিলিমোলস পার লিটার। ৩.৫ মিলিমোলস পার লিটারের নিচে নেমে এলে এটি অস্বাভাবিক।

কি কি লক্ষণে বোঝা যাবে পটাশিয়ামের অভাব

১. কোষ্ঠকাঠিন্য

পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে হজমে সমস্যা হয়। এটি পেট ফোলাভাব ও কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করে। ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত শোনালেও আসলে পটাশিয়ামের ঘাটতি আপনার দেহের সব কর্মকাণ্ডকেই ধীর করে দেয়। আপনার বিপাক ক্রিয়াও এর বাইরে নয়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগাটাও আসলে পটাশিয়াম ঘাটতির একটি লক্ষণ হতে পারে।

২. অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

পটাশিয়ামের ঘাটতি হৃদপিণ্ডের ওপর প্রভাব ফেলে। হৃৎপিণ্ডের গতি হঠাৎ বাড়া কমার পেছনে অনেক রকম কারণ থাকতে পারে। তবে পটাশিয়ামের ঘাটতি এই কারণগুলোর অন্যতম। পটাশিয়াম ধমনীর ওপর চাপ কমায়। তাই দেহে পরিমাণমতো পটাশিয়াম না থাকলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সুতরাং উচ্চরক্তচাপ পটাশিয়াম ঘাটতির একটি লক্ষণ।

৩. উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কমাতে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপও পটাশিয়ামের ঘাটতি হওয়ার একটি লক্ষণ।

৪. অবসন্নতা
পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে শরীর অবসন্ন লাগে। এতে প্রায়ই ক্লান্তবোধ লাগে। এটিও একটি লক্ষণ পটাশিয়ামের ঘাটতির।

৫. স্নায়ুতে প্রভাব

পটাশিয়াম স্নায়ুকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে স্নায়ুতে স্পর্শকতরতা তৈরি হয়।

৬. হাতে পায়ে ঝিম ধরা

পটাশিয়াম যেহেতু আপনার দেহের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতার জন্য দায়ী, তাই এর ঘাটতিতে আপনার হাত-পা অবশ হয়ে আসা, ঝিন ঝিনে অনুভূতি ইত্যাদি হতে পারে।

৭. মাথা ঘুরে ওঠা

দেহে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি কমে গেলে আপনার মাথা ঘুরে উঠতে পারে, মনে হতে পারে আপনি অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। এই লক্ষণটি অবশ্য খুব বেশি দেখা যায় না, আর মাথা ঘোরার পেছনে আরো অনেক রকম কারণ থাকতে পারে।

৮. মাংসপেশির দুর্বলতা অথবা মাংসপেশিতে টান লাগা

পটাশিয়াম মাংসপেশির সঠিক সংকোচন-প্রসারণ নিশ্চিত করে। তাই যদি আপনার দেহে পটাশিয়ামের ঘাটতি থাকে, তবে আপনার ব্যথা করবে কিংবা হঠাত্ খিঁচুনি ধরবে।

৯. সবসময়ে ক্লান্তি বোধ

আপনার দেহের প্রতিটি কোষেরই ঠিকভাবে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে পটাশিয়াম প্রয়োজন। তাই আপনি যদি ক্রমাগত পটাশিয়ামের ঘাটতিতে থাকেন, তবে ক্লান্তিতে ভুগবেন। যদি ঠিকমতো ঘুমানোর পরও সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন, তবে বুঝবেন আপনার দেহে পটাশিয়ামের ঘাটতি রয়েছে।

এই পটাশিয়াম অনেক মজাদার খাদ্যেই থাকে, যেমন তরমুজ, কলা, শিম। তবে এসব খাবার যথেষ্ট পরিমাণে খাওয়ার পরও অনেক সময় দেহে পটাশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। কারণ আমরা যত বেশি সোডিয়াম বা লবণ গ্রহণ করি, আমাদের দেহ থেকে তত বেশি পটাশিয়াম নিঃসরিত হয়।

সারাদিন/২৮ ডিসেম্বর/আরটিএস