‘বিমানের যাত্রীসেবা বাড়ানোর সাথে সাথে রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে’

বিশেষ প্রতিনিধিবিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ২৮/১২/২০১৯

শুধু বিমান কেনা না, এটা যেন যথাযথভাবে চলে এবং বিমানের যাত্রীসেবা বাড়ানোর সাথে সাথে রক্ষণাবেক্ষণও সকলের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার নতুন দুই ড্রিমলাইনার সোনার তরী ও অচিন পাখি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর ব্যবহারে সবাইকে নিরাপত্তা বিষয়ক নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম না মানা ভিআইপিদের সর্তকও করেছেন।

বর্তমানের সঙ্গে অতীতের তুলনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালের পূর্বে যদি ঢাকা এয়ারপোর্টের কথা কারো স্মরণ থাকে.. একটু চিন্তা করে দেখবেন যে সেটা কী ধরনের অতি সাধারণ একটা এয়ারপোর্ট! বোর্ডিং ব্রিজ বা কোনো কিছুই ছিল না। একটা মাত্র সিঁড়ি। গাড়িতে নেমে ওখানে দোতলায় উঠে আবার নিচে নেমে হেঁটে প্লেনে উঠতে হত।

‘আর বিমান বহরে যেগুলো ছিল, এমনই ঝরঝরে। আমি যখন প্লেনে যেতাম, ঝর ঝর করে পানি পড়ত। তোয়ালে, টিস্যু দিয়ে বন্ধ করতে হত। এন্টারটেইনমেন্টের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না।’

বিমানের এই দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থার জন্য ওই সময় দেশ পরিচালনাকারীদের দায়ী করে শেখ হাসিনা বলেন, “দোষটা ছিল আমাদের এখানেই যারা রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তাদেরই।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর গত ১০ বছরে বিমানবন্দরের উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।

ভিআইপিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের নিয়ম না মানার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিরাপত্তা বিষয়টাতে অনেক গুরুত্ব দিয়েছি, সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নিরাপত্তার যে নিয়মগুলো আন্তজার্তিক পর্যায়ে আছে, আমাদের সব যাত্রীকে সেটা মেনে নিতে হবে।’

নিয়ম অমান্যকারীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘এখানে আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আমাদের যারা সংসদ সদস্যরা আছেন, আমাদের এখানে মন্ত্রীরা আছেন, বাহিনীপ্রধানরা আছেন বা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন অফিসাররাও আছেন- দয়া করে আপনারা যখন বিদেশে যান, যেভাবে নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করা হয়, ঠিক সেভাবে আমাদের বিমানবন্দর করতে হবে। সেটা সবাইকে মেনে নিতে হবে।’

‘সেখানে কেউ কোনো বাধা দিতে পারবে না। আর যদি কেউ এক্ষেত্রে বাধা দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে বিমানে চড়া বন্ধ হয়ে যাবে। অন্তত আমি সেটা করবো। সেটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।’

অনিয়মের খবর তার কাছে পৌঁছে যায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখবেন, আমার তো আর কোনো কাজ নেই, সারাদিন দেশের কাজই করি। কাজেই কোথায় কী হয়, না হয়, খোঁজ-খবরগুলো নেওয়ার চেষ্টা করি। কাজেই কেউ সেখানে কোনো রকম অনিময় বা ব্যত্যয় ঘটাতে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু আমার কাছে খবরটা চলে আসে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।’

স্বর্ণপাচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এগুলো বন্ধ করতে হবে। বিমানের সুনাম আন্তর্জাতিকভাবে যেন বৃদ্ধি পায়।’

এর আগে সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এসেই জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন যুক্ত হওয়া বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ সিরিজের নতুন দু’টি উড়োজাহাজ ‘সোনার তরী’ ও ‘অচীন পাখি’ উদ্বোধন করেন তিনি।

সকাল ১০টা ২০ মিনিটে দেশের অ্যাভিয়েশন সেক্টরের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

পরে ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’ নামে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এ অ্যাপের মাধ্যমে বিমানের টিকিট কাটলে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এসব উন্নয়নকাজ উদ্বোধনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বিমানের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ইনামুল বারী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান, বিমান সচিব মহিবুল হক, বিমানের এমডি মোকাব্বির হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্টদূত প্রমুখ।

সারাদিন/২৮ ডিসেম্বর/