বিজেপি হিন্দু-মুসলমান বিভাজন চাইছে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নিউজ ডেস্কনিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, ২৫/১২/২০১৯

পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং এনআরসি ইস্যুকে বিজেপি হিন্দু-মুসলমানে ভাগ করতে চাইছে। ওই দুই আইনের বিরোধিতা গোটা দেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

সিএএ এবং এনআরসি বিরোধী লাগাতার আন্দোলনে মঙ্গলবার (২৪ ডিসিম্বর) সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ি থেকে বেলেঘাটার গান্ধী ভবন পর্যন্ত মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন দুপুরে সিমলা স্ট্রিট থেকে মিছিলের শুরু হওয়ার আগে মমতা বলেন, ‘দেশের সর্বস্তরের মানুষ সিএএ এবং এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। বিজেপি এটাকে হিন্দু-মুসলমানে ভাগ করতে চাইছে। আমরা এই আন্দোলন করছি ইউনাইটেড ইন্ডিয়ার জন্য। অখণ্ড ভারতের সব মানুষের আন্দোলন এটা।’

নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের নাম না করে এদিন মমতা বলেন, হোম মিনিস্টার সংসদে বলেছেন, সিএএ এবং এনআরসি দেশজুড়ে হবেই। আবার প্রাইম মিনিস্টার বলছেন, কই! আমরা তো এসব বলিনি। কী অদ্ভূত।

মুখ্যমন্ত্রীর আরও বলেন, কে কী বলেছি, তা তো ‘পাবলিক ডোমেইন’-এ রয়েছে। আপনি কী বলেছেন, আর আমরা কী বলছি, সব জানতে পারছে মানুষ। ঔদ্ধত্য ছাড়ুন, অহঙ্কার ছাড়ুন। মমতার এই খোঁচার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এদিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীই ঠিক বলছেন। দেশজুড়ে এনআরসি হওয়ার কোনও কথাই মন্ত্রিসভায় হয়নি। প্রসঙ্গত, গত রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানের সভায় নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, দেশজুড়ে এখনই এনআরসি করার কোনও পরিকল্পনা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভোলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে।

সিএএ এবং এনআরসি ইস্যুতে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গ উত্থাপন করে যোগী সরকারকে কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, বড় বড় কথা! বাংলায় নাকি আইনের শাসন নেই! উত্তরপ্রদেশে তো আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ১৬ জনকে গুলি করে মেরেছেন। আমাদের দলের প্রতিনিধিরা আক্রান্ত মানুষের পাশে যেতে চেয়েছিলেন। লখ্নৌর বিমানবন্দর থেকে বাইরেই বের হতে দিল না।

এরপরই সুর চড়িয়ে জে পি নাড্ডার নাম না করে তাঁর কলকাতার মিছিল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেখুন বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। দিল্লি থেকে একজন উড়ে এল। বাবুরা হাঁটতেও পারেন না। গায়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা। গাড়িতে চেপে মিছিল করে গালিগালাজ দিয়ে টা টা করে চলে গেল। মমতার বলেন, আমরা বলছি সিএএ টা টা, এনআরসি টা টা। দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আমাদের প্রতিনিধিদের আটকে দিল। আমরাও তো পারতাম আটকাতে, কিন্তু তা করিনি। মানুষই এর জবাব দেবে। মহারাষ্ট্রে যোগ্য জবাব দিয়েছে। ঝাড়খণ্ডেও মিলেছে উপযুক্ত জবাব। ঝাড়খণ্ড, বিজেপি লণ্ডভণ্ড। ঝাড়ের উপর ঝাড়। এটাই মানুষের প্রতিবাদ, গণতন্ত্রের ঝাড়লন্ঠন।

সারাদিন/২৫ডিসেম্বর/টিআর