কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে দিবে আগামী বছর আপনি মারা যাবেন কিনা!

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ, ১৪/১১/২০১৯


নতুন গবেষণা নিয়ে হাজির হয়েছে আধুনিক বিজ্ঞান। এই গবেষণা বলছে, একজন মানুষের ইসিজি (ECG) রিপোর্ট পরীক্ষা করে বলা যাবে আগামী এক বছরের মধ্যে মারা যাবেন কিনা, তা বলে দিবে শুধু তাই নয়, এটি নির্ভুল ভাবে বলবে। আর এ কাজটি করবে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)। এমনটাই দাবি করছেন আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষকরা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, এমন ঘোষণা করার আগে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য, পেনসিলভেনিয়ার জিজিংগার হেলথ সিস্টেমের গবেষকরা প্রায় ৪ লক্ষ রোগীর থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ১.৭৭ মিলিয়ন ইসিজি এবং অন্যান্য চিকিৎসাজনিত রেকর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন। ইসিজি সিগন্যালকে বিশ্লেষণ করে নিউরাল নেটওয়ার্ক মডেল এক বছরের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলে তার পূর্বাভাস দিতে পারে।

আশ্চর্যের বিষয়, যে ইসিজি রিপোর্ট দেখে হয়তো চিকিৎসক মনে করছেন যে রোগীর হৃদয় বা হার্টের স্বাভাবিক অবস্থা রয়েছে সেই রোগীদের ইসিজি পরীক্ষা করেও নিউরাল নেটওয়ার্ক মৃত্যুর ঝুঁকি (Death Risk) সম্পর্কে সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি গবেষকদের।

দেখা গেছে, তিনজন কার্ডিওলজিস্ট বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আলাদা আলাদাভাবে ইসিজি পর্যালোচনা করে যেখানে কোনও সমস্যা ধরতে পারেননি সেখানে নিউরাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ওই সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ”

এটি এই সমীক্ষার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধান। এটি ভবিষ্যতে ইসিজিগুলি ব্যাখ্যার পদ্ধতিকেই পুরোপুরি বদলে দিতে পারে”, জানিয়েছেন পেনসিলভেনিয়ার ড্যানভিলের গিজিংগার-এ ইমেজিং সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন বিভাগের চেয়ারম্যান ব্র্যান্ডন ফোরনওয়াল্ট।

অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক মডেলগুলি ইসিজি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করতে পারে এবং রোগীদের সম্ভাব্য বিপজ্জনক অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (অ্যারিথমিয়া) থেকে মৃত্যুর সম্ভাবনাও চিহ্নিত করতে পারে। তাঁরা এও আবিষ্কার করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইসিজি পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষা করে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন থেকে মৃত্যুর সম্ভাবনার প্রায় সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারে। গত ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়ার আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশন এও এই বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন সুবিধা আছে, তেমন একটি অসুবিধাও রয়েছে। “এই মডেলগুলির মাধ্যমে রুটিন ইসিজি রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হবে। তবে কম্পিউটারের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে রোগীদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসার পরিকল্পনা করা তখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দেবে বলে জানা গেছে।