চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমরা আর মিস করতে চাই না: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক ডেস্কঅর্থনৈতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, ২৪/১২/২০১৯

এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব চলছে। আর এটা হলো ডিজিটাল বিপ্লব। এই বিপ্লব আমরা আর মিস করতে চাই না। আগের শিল্পবিপ্লবগুলো আমরা মিস করেছি, কিন্তু এটি আর মিস করতে চাই না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় উঠবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) অডিটোরিয়ামে অর্থমন্ত্রী ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ওয়ালটন র‌্যামের উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম শিল্পবিপ্লবটি হয়েছিল ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের মাধ্যমে। এরপর ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ ও ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেটের আবিষ্কার শিল্পবিপ্লবের গতিকে বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। আমরা এগুলো মিস করেছি। এবার ডিজিটাল বিপ্লব মিস করতে চাই না।’

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে আর তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অর্থনৈতিক মুক্তির দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে মধ্যে দেশ অর্থনীতিতে অনন্য উচ্চতায় উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মুস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

মুস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করেছে ওয়ালটন। আইসিটি খাতে বাংলাদেশ এখন উৎপাদনকারী দেশ। এক সময় আমরা ছিলাম শতভাগ আমদানি নির্ভর দেশে। ভবিষ্যতে আমরা রপ্তানিকারক দেশে হব।’

তিনি বলেন, ‘ওয়ালটন দেশের ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে ওয়ালটন আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে সক্ষম হবে বলে আমি আশা রাখি। আজ তারা র‌্যাম উৎপাদন করেছে। এক দিন দেখা যাবে, তারা আইসিটির সব পণ্য তৈরিতে সক্ষম হবে।

মুস্তাফা জব্বার বলেন, দেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ মোবাইল ৯টি প্রতিষ্ঠান দেশেই উৎপাদন করে। এখন স্যামসাং, অপ্পো ফোন কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের পণ্য উৎপাদন করছে। আরও অনেক কোম্পানি বাংলাদেশে আসতে চাইছে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আমাদের আইসিটি খাত উন্নয়নের শক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের চার বছর আগে নির্দেশনা দিয়েছিলেন কীভাবে আমরা আইসিটি পণ্য রপ্তানিকারক দেশ হতে পারি। সেই থেকে আমরা এ বিষয় বিষদ আলোচনা-পর্যালোচনা করেছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে বসে বেশ কিছু আইসিটি সরঞ্জামের ওপর ইমপোর্ট ডিউটি কমিয়েছি।’ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার আইসিটি সেক্টর থেকে রপ্তানির আয় হবে বলেও জানান পলক।

তিনি বলেন, বর্তমানে বছরে চার কোটি মোবাইল এবং পাঁচ লাখ ল্যাপটপ আমদানি হয়। এ আমদানি কমিয়ে আনতে দেশি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আশার আহ্বান জানান।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘স্কুলগুলোতে ডিজিট্যাল ল্যাব করার জন্য ওয়ালটন থেকে ল্যাপটপ কেনা হয়েছে দ্ইু বছের আগে। এখনো একটি ল্যাবটপও নষ্ট হয়নি। আমাদের দেশে উৎপাদন পণ্য অন্য দেশের পণ্যের চেয়ে ভালো এ বিশ্বাস আমাদের রাখতে হবে। নিজেদের দেশের পণ্য ব্যবহার করতে হবে।’

অনুষ্ঠান দেশের শীর্ষ ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, আইওটি এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের নিজস্ব কারখানায় র‌্যাম (র‌্যানডম অ্যাকসেস মেমোরি) উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের র‌্যাম উৎপাদন কর্যক্রম উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি। ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এম এম জাহিদ হাসান প্রমুখ।

ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছ থেকে উৎসাহ চাই। ওয়ালটনের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের স্বনামধন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে একটি হওয়া।

সারাদিন/২৪ ডিসেম্বর/এসটি