প্রধানমন্ত্রীর ত্যাগী রাজনীতিবিদদের উঠিয়ে আনার যে চেষ্টা, তাতে সামিল হতে চাই: মাইনুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, ২৩/১২/২০১৯

সুস্থ ধারার রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে বর্তমান জননেত্রী শেখ হাসিনা যে অভিযান ও চিন্তা ভাবনার ধারাটা চালু করেছেন, ‘রাজনীতিবিদরাই রাজনীতি করবে’ এবং ত্যাগী রাজনীতিবিদদের উঠিয়ে আনার যে চেষ্টা করছেন; রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতি ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা করছেন, আমি সেই প্রচেষ্টায় সামিল হতে চাই বলে জানিয়েছে ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বর্তমান ধারার যে রাজনীতি আর আমরা ৯০-এর দশকে যে রাজনীতি করেছিলাম তার মধ্যে আমূল পরিবর্তন। সেটাকে পরিবর্তন করার জন্য নেত্রী যে যুগোপোযুগি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাতে স্বাগত জানাই, সাথে থাকতে চাই।

সম্প্রতি সারাদিন ডট নিউজ-এর সাথে আলাপচারিতায় এমন কথাগুলো বলছিলেন প্রবাসী এই নেতা। তিনি আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে দেশে আসেন। তখনই মুখোমুখি হন সারাদিন ডট নিউজের।

সারাদিন: আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে কতদিন ধরে আছেন?

মাইনুল ইসলামঃ সক্রিয় রাজনীতিতে আসি কলেজ জীবন থেকে। সেটা ১৯৯০ সাল থেকে। সক্রিয় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। শেষ পর্যায়ে আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। পরে আমি ১৯৯৯ সালে ফিনল্যান্ডে যাই। প্রথম আমি আন্তর্জাতিক সম্পাদক পরে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম দীর্ঘদিন। গত ২০১৬ সালে আমি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই এ পর্যন্ত আছি।

সারাদিন: কলেজ ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একটু বলুন?

মাইনুল ইসলামঃ আমার বাবা ছিলেন সরকারী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাই বাবার চাকরী জীবনে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন স্কুলে চাকরী করেছেন। তাই আমারও বারবার স্কুল ও কলেজ পরিবর্তন হয়েছে। আর আমি ছোট বেলা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেছি মঠ-বাড়িয়া সরকারী কলেজে পড়েছি। সেখানে কলেজ শাখার আমি সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আর বাবার বিভিন্ন জায়গায় চাকরীর কারণে আমি দোহার নবাবগঞ্জ কলেজে ডিগ্রী পড়ি। সেখানে বাবা পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সেখানে আমি সক্রিয় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম।

সারাদিনঃ রাজনীতি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

মাইনুল ইসলামঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ত্যাগী রাজনীতিবিদদের উঠিয়ে আনার যে চেষ্টা করছেন এবং রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতি ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা আমি সেই প্রচেষ্টায় সামিল হতে চাই। আমি পজিটিভ ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমিও চাই সুস্থ ও সুন্দর রাজনীতিতে ফিরে আসার পক্ষে।

সারাদিনঃ প্রবাস জীবন ও রাজনৈতিক জীবন এই দুইটাকে আপনি কিভাবে সামলাচ্ছেন?

মাইনুল ইসলামঃ প্রবাস জীবন, রাজনৈতিক জীবন এর সাথে আমি আরেকটি জীবন রয়েছে। সেটা হলো পারিবারিক জীবন। যেহেতু আমি পরিবার নিয়ে থাকি। দুইটি বাচ্চা , পরিবার ও রাজনীতি সবই সামলে চলছি। আসলে রাজনীতি করতে গিয়ে পরিবার ও ব্যবসা দুইটায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজনীতিটা যেহেতু আমার নেশা। তাই দুটোকেই সামলে চলছি।

সারাদিনঃ ফিনল্যান্ডে অন্য রাজনৈতিক দলে কি অবস্থা?

মাইনুল ইসলামঃ ফিনল্যান্ডে তারা (বিভিন্ন রাজনৈতিক দল) বিরোধিতার কারণে বিরোধিতা করে। বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী যখ বিভিন্ন দেশে যান, ওই সময়ে ওরা খুবই সক্রিয়। এছাড়া ওদের তেমন কোনো অ্যাক্টিভিটিস (কার্যক্রম) নেই। ওরা যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছিল এবং কার্যকরের সময়ে ওরা সক্রিয় ছিল। এছাড়া ওদের রাজনীতিতে তেন সক্রিয়তা নেই।

সারাদিন:  বিদেশে আপনাদের কার্যক্রম কী হয়?

মাইনুল ইসলামঃ যখন দলের ক্রাইসিস পিরিয়ড আসে তখনই প্রবাসে যারা আছে তাদের দরকার হয়। তখনই আমরা বিদেশে যে আন্তর্জাতিক পার্লামেন্ট আছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এছাড়া যেটা আছে মানবিক সংস্থা, তখন কিন্তু এদেশের আওয়ামীলীগরা যায় না। তখন কিন্তু প্রবাসীরা তাদের কাছে যায় এবং স্মারকলিপি দেয় সভা সেমিনার আসলে ক্রাইসিস পিরিয়ডে দলের প্রবাসীদের কাজে লাগে। তবে আমাদের এখন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন মূলক কাজ আছে সেগুলোকে তুলে ধরার জন্য আমরা কাজ করি।

সারাদিনঃ এই রাজনীতিতে কেন? অনেক রাজনৈতিক দল তো ছিল। সেগুলো বাদ দিয়ে আপনি এই রাজনীতিতে আসলেন?

মাইনুল ইসলামঃ আসলে আমার জন্ম হচ্ছে রাজনীতির পাঠশালায়। আমার বাবা ছিলেন, মঠবাড়ী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি। এছাড়া তিনি মঠবাড়ীয়া ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা। সেজন্যই আমার এই রাজনীতিতে আসা। আমার বাবার নাম নুরুল ইসলাম। যাকে এলাকাবাসীরা নুরু বিএসসি হিসাবেই চিনেন। তিনি হেড মাষ্টার ছিলেন। আমি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই আমি শুনেছি ৬৯, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ। এসব আব্বার মুখ থেকেই শুনেছি। আর ড্রইং রুমে যখন প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলতেন তখন আমি এসব শুনেই বড় হয়েছি। আর এছাড়া আমি রাজনীতি করি ঠিকই। তবে আমি একজন মানুষ। আগে আমি মনে করি একটি মানবিক সমাজ দরকার। সমাজের জন্য দরকার একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র।

আওয়ামীলীগের মূলনীতির মধ্যে যেটি আমার সবচেয়ে আকৃষ্ট করে আর তা হলো ধর্ম নিরপেক্ষতা। আমি অন্য কোনো দলের মাঝখানে এই ধর্মনিরপেক্ষতা দেখি না। শুধু আওয়ামীলীগের মাঝেই দেখি। আসলে এই দলে সব ধর্ম, বর্মের মানুষ সুখ শান্তিতে থাকতে পারে। আওয়ামীলীগের এই চারটি মূল নীতি আছে সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা আমাকে আকৃষ্ট করেছে। আমি তা বিশ্বাস করি। তাকে ধার্মিক হওয়ার আগে মানুষ হওয়া প্রয়োজন।

সারাদিনঃ ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশীদের সংখ্যাটা কেমন?

মাইনুল ইসলামঃ এই পরিসংখ্যান কেউ বলতে পারে না। তবে ৫ থেকে ৬ হাজার লোক এখানে বাস করে ফিনল্যান্ডে।

সারাদিনঃ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কি বলবেন?

মাইনুল ইসলামঃ তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার বার্তা, আমাদের দেশে ফিরে আসার জন্য দেহটা ওখানে আছে তবে মনটা বাংলাদেশে। আমরা অনেকে চিন্তা করি যে, আমরা ইউরোপীয় দেশগুলোতে যাব। আর সেখানেই গেলেই বেটার জীবনের জন্যই যাই। এটা তো একটা আপেক্ষিক বিষয়। এটার সাথে তো অনেক কিছুই জড়িত। ২০ বছরে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমি দেশে ফিরে আসতে চাই। তবে পরিবারের কাছে আমার একটু দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে তরুণ প্রজন্মকে বলতে চাই, বাংলাদেশে তো অনেক সুযোগ রয়েছে। তাই দেশই ভালো। বিদেশ বিদেশই। আমরা যখন বিদেশে থাকি তখন বলে বিদেশী আর যখন দেশে আসি তখন প্রবাসী বলা হয়। এখন আপনিই বলুন আমরা কোন দেশী।

সারাদিন/২৩ডিসেম্বর/টিআর/এসটি