রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রভাষক পদে চাকরি পাইয়ে দিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) আগে চাকরি প্রত্যাশীর স্ত্রীর কাছে মোটা অংকের টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি মোড়ে একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি প্রত্যাশী নুরুল হুদা সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। এ সময় তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষ চাওয়ার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে কোনো তথ্য-প্রমাণ দেখাননি তিনি। নুরুল হুদার দাবি করে জানান, সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে সেখানে তা হাজির করবেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে নুরুল হুদা অভিযোগ করে বলেন, ভাইভার আগে প্রভাষক পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করেন অধ্যাপক জাকারিয়া। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার আগের রাতে (১৬ নভেম্বর ২০১৮) বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণসহ উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানকে জানানো হয়েছে। তবে তিনি আমাকে কিছুই জানাননি।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর উপ-উপাচার্যের টাকা চাওয়ার ফোন রেকর্ড ফাঁস হওয়ায় গত ৩ অক্টোবর চাকরি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন অধ্যাপক জাকারিয়া। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। এ বিষয়টিও গত ১১ অক্টোবর রাবির দুই শিক্ষকের মাধ্যমে উপাচার্যকে জানানো হলে তিনি (উপাচার্য) বিষয়টি জানেন না বলে জানান।

শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের কথা তুলে ধরে নুরুল হুদা বলেন, এলএলবি (অনার্স) ফলাফল অনুযায়ী নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে আমি সবার চেয়ে এগিয়ে। নিয়োগপ্রাপ্ত বনশ্রী রাণী স্নাতকে ৩ দশমিক ৬৪, সালাউদ্দিন সাইমুম ৩ দশমিক ৪২ এবং নূর নূসরাত সুলতানার দ্বিতীয় শ্রেণি ছিল। আর আমার জিপিএ ছিল ৩ দশমিক ৬৫।

শিক্ষক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নূর নূসরাত সুলাতানা স্নাতকোত্তরে প্রাপ্ত ৬৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ নম্বরকে প্রথম শ্রেণি হিসেবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি লন্ডনের বিপিপি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। যেখানে গ্রেডিং অনুযায়ী ৬৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ নম্বর দ্বিতীয় শ্রেণি বলে বিবেচিত হয়। লন্ডনের বিপিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলএম-এ প্রথম সারির ফলাফলকে ডিস্টিংশন বলা হয়, যা পেতে একজন শিক্ষার্থীকে ৭০ শতাংশ নম্বর বা তার বেশি পেতে হয়।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এবং রাবির গ্রেডিং পদ্ধতি অনুয়ায়ী ৬৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ নম্বর বি-গ্রেড (৩.০০)। নূর নূসরাতের ৬৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ নম্বরকে প্রথম শ্রেণি বিবেচনা, তার নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা এবং সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেখানে উপাচার্যকে আইন বিভাগের চাকরি প্রত্যাশী নুরুল হুদার স্ত্রী সাদিয়ার সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায় এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। তবে ঘটনার পরদিন অধ্যাপক জাকারিয়া সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, নিয়োগে আর্থিক লেনদেন হচ্ছে- এমনটা জানতে পেরে তিনি নুরুল হুদার স্ত্রীর সঙ্গে ওইসব কথাবার্তা বলেছিলেন।

সারাদিন/২২ডিসেম্বর/টিআর