ধরলা নদী ভাঙ্গন: বসতবাড়ি রক্ষায় অন্যত্র ছুটছেন নদী তীরবর্তী মানুষজন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ণ, ১৬/০৯/২০২০

উত্তরের সীমান্তঘেষাঁ ১৬টি নদ-নদী বিধৌত জেলা কুড়িগ্রাম। নদী ভাঙ্গন এ জেলার অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা। প্রতিবছর নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে শতশত বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়। নদ-নদী সমূহের কড়াল গ্রাসে নদীগর্ভে হারিয়ে যায় শতশত হেক্টর আবাদি জমি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সমূহ ভেঙ্গে তলিয়ে যায় নদীগর্ভে। এ জেলার মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নে অন্যতম অন্তরায় নদী ভাঙ্গন। নদী ভাঙ্গনে প্রতিনিয়তই ছোট হয়ে আসছে এ জেলার মানচিত্র।

এ বছরের দুই মাসেরও অধিক দীর্ঘমেয়াদী বন্যায় নদীগর্ভে বসতভিটা হারানো মানুষজন বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারো ধরলার আকস্মিক তীব্র ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বসতবাড়ি রক্ষায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন দিক্বিদিক। জেলা সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ধরলা নদীর তীরবর্তী জনমনের চর এলাকার প্রায় ৩৫টির ও অধিক বাড়ী গতকাল রাত থেকে অব্যাহত পানি পাওয়ায় ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভাঙ্গনের এক হাত কাছাকাছি রয়েছিল জগমনের চর এলাকার একমাত্র নন্দ দুলাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। যা নদীগর্ভে বিলীন হলে শিক্ষা বঞ্চিত এ এলাকার প্রাইমারী স্কুল শিক্ষার্থীরা। নদী পাড়ের শত শত পরিবার নদীর ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কায় বাড়িঘর ভেঙ্গে গাছপালা কেটে গবাদি পশু সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ছুটছেন অজানায়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চর এলাকায় গিয়ে ধরলার তীব্র ভাঙ্গনের কবলে শত শত বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার এমন চিত্র চোখে পড়ে।

ধরলার তীরবর্তী জগমনের চরের বাধে আশ্রয় নেয়া বাড়িঘর ভাঙ্গনরত অবস্থায় কৃষক ছক্কর আলীর সাথে কথা হলে, তিনি আহত কন্ঠে জানান, প্রতিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়। গতকাল রাত থেকে ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গনে আমার বাড়ীর বেশ কিছু জিনিস পত্র সহ ধাপড়ীটাও চলে গেছে। তাই সবাই মিলে ঘরের বেড়া ও ছাউনি সরিয়ে নিচ্ছি। আমরা পরিবারের ছয় সদস্য মিলে নদীর ঐ পাড়ে গিয়ে আপাতত অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নেবো।

একই পরিস্থিতির শিকার দিনমজুর রফিকুল জানান, বাড়িঘর ভাঙ্গতেছি। কিছুক্ষণ আগে একটি ঘর ধাপড়ীসহ নদীতে চলে গেছে। নদী যেভাবে ভাঙ্গতেছে তাতে শেষ রক্ষাটুকু হবে কিনা জানা নেই। তবুও পরিবারের সবাই মিলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যতটুকু সম্ভব হয় অন্যত্র সরিয়ে নিতে। ঘরের অআসবাবপত্র ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথায় যাবো জানা নেই। দুনিয়াতে আমাদের খোঁজ নেয়ার কেউই নেই। আল্লাহ তায়ালাই আমাদের একমাত্র ভরসা।

একই এলাকার কৃষক মেহের আলী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জানান, চরে আমার বাড়ি। নদীগর্ভে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও আসবাব পত্র সব ভেসে গেছে। তাৎক্ষণিক যতটুকু উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি ততটুকু নিয়েই পরিবারের সবাই মিলে এই বাধে এসে আশ্রয় নিয়েছি। জানিনা কি আছে কপালে।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোঃ সাঈদুর রহমান বলেন, আমি সরেজমিনে নদী ভাঙ্গন এলাকায় গিয়েছি। ইতিমধ্যে ৩৫টি বাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আমি সেখানকার সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছি। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী ধরলা নদীর পানি বর্তমানে ২৬.৬৫ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার স্বাভাবিক অবস্থা ২৬.৫০ সেন্টিমিটার।

সারাদিন/১৬সেপ্টেম্বর