আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসে গঠন করা দল নয়: প্রধানমন্ত্রী

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, ২০/১২/২০১৯

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসে গঠন করা দল নয়। আওয়ামী লীগ গ্রাম-গঞ্জের মানুষদের নিয়ে গঠন করা দল।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, তখনই মানুষের উন্নতি হয়েছে। জাতির পিতা দরিদ্র মানুষদের জন্যই সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এই দেশের মানুষ ছিলো তখন দারিদ্র সীমার নিচে। একবেলা খাবার পেতো, আরেকবেলা চিকিৎসা পেতো না। আর জাতির পিতার লক্ষ্য ছিলো এই ধারা থেকে জনগণকে মুক্তি করার। তিনি কিভাবে দেশ স্বাধীন করেছেন, এটা তার প্রতিটি বক্তব্যের অডিও ভিডিওতে দেখা যায়।

সারাদেশ থেকে আসা দলের কাউন্সিলরদের বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শের ওপর অবিচল থেকে রাজনীতি করার তাগিদ দেন দলীয় সভাপতি। দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে নির্দেশ দেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সংগ্রামী অতীতের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ওপর আঘাত এসেছে বারবার। জাতির পিতাকেও কতবার হত্যাচেষ্টা হয়েছে। তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুঁলানোর ষড়যন্ত্র হয়েছে। তবে সফল হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দেয়ার অনেক চেষ্টা অনেকবার হয়েছে। ইয়াহিয়া, আইয়ুব থেকে শুরু করে জিয়া, এরশাদ, খালেদা সবাই প্রথম আঘাত করেছে আওয়ামী লীগকে। তবে আদর্শ সংগঠন বলেই কেউ আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে পারেনি।’

এর আগে বিকাল তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় দুই দিনের সম্মেলন। দুপুর তিনটা ৫ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ মঞ্চের পাশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের। এসময় তিনি সাদা পায়রা উড়িয়ে দেন।আর সেই সময়ই আলাদা মঞ্চে শিল্পীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য নেতাকর্মী ও অতিথিরাও এতে সুর মেলান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। ওইদিন ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল অধিবেশন। সেখানে ঐতিহ্যবাহী দলটির আগামী তিন বছর কারা নেতৃত্ব দেবে তা বাছাই করা হবে।

এদিকে সকাল থেকেই তীব্র শীত উপেক্ষা করে সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হন।

দলের জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীজুড়েই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল আটটা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে দলটির নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে থাকেন। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

সম্মেলনস্থলে প্রবেশের জন্য পাঁচটি গেটের মধ্যে চারটি গেট সকাল থেকে খুলে দেয়া হয়। এই চারটি গেট দিয়ে সকাল থেকে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করেন নেতাকর্মীরা। ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করেন শেখ হাসিনা।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ, আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে প্রায় সাত হাজার কাউন্সিলর এবং ১৫ হাজার ডেলিগেটসহ ৫০ হাজার নেতাকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নিয়েছেন। ২৮টি এলইডি পর্দায় দেখানো হচ্ছে সম্মেলনের পুরো অনুষ্ঠান।

সারাদিন/২০ডিসেম্বর/টিআর