রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পারভেজ মোশাররফের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, ২০/১২/২০১৯

পাকিস্তানের প্রাক্তন সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। দুই দিন আগে ওই মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি বিশেষ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ১৬৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, কোনও স্বৈরশাসক যতক্ষণ মানুষের ইচ্ছাকে পরাভূত করতে পারে ততক্ষণ ক্ষমতায় থাকে। রায়ে পারভেজ মোশাররফের ক্ষমতা গ্রহণ ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের কঠোর সমালোচনা করা হয়।

১৯৯৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অপসারণ করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান শাসন করেন মোশাররফ। গত ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি। একই বছর ৫ এপ্রিল তার ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

২০১৬ সালের মার্চে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুবাইয়ের উদ্দেশে পাকিস্তান ছাড়েন মোশাররফ। বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি।

২০০৭ সালের ৩ নভেম্বর জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে সংবিধান বাতিলের ঘটনায় ২০১৩ সালে পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। গত মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) ইসলামাবাদের বিশেষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ ওই মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, প্রসিকিউশন দল অনস্বীকার্য, অকাট্য এবং সন্দেহাতীত প্রমাণ উপস্থাপন করায় আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর অভিযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত।

বিশেষ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ে তৎকালীন সেনা কমান্ডারদের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, যদি এক মুহূর্তের জন্যই ধরে নেওয়া হয় যে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কমান্ডাররা জড়িত (সংবিধান বাতিলের সঙ্গে) ছিল না তাহলে তারা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের সুরক্ষা দিতে কেন ব্যর্থ হলো। বলা হয়েছে, ইউনিফর্ম পরিহিত যেসব কমান্ডার তাকে পাহারা দিয়েছে তারাও সমানভাবে এতে জড়িত আর তারাও অভিযুক্ত ব্যক্তির মতোই কাজ করেছে।

সারাদিন/২০ডিসেম্বর/টিআর