আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ, ২০/১২/২০১৯

আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে মিছিলের মোহনায় পরিণত হয়েছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর ৩ টা ৫ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসেই জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। পাশে সাধারণ সম্পাদকও পতাকা উত্তোলন করেন।

সকালে শীত উপেক্ষা করে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে আসেন দলটির নেতাকর্মীরা।

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারদিকে লোকেলোকারণ্য হতে থাকে বেলার সঙ্গে সঙ্গে। ব্যানার ফেস্টুন ব্যান্ড পার্টি নিয়ে আগত নেতাকর্মীদের সম্মেলনের সফলতা কামনা করে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এ সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাইক থেকে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গানের সুর বাজানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এর পরে প্রধানমন্ত্রী শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এবং বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। আর তিনি মূল মঞ্চে উঠেন।

এরপর ২৫ মিনিটের একটি উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে। সেখানে তুলে ধরা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য। সম্মেলন ঘিরে সারাদেশেই দলটির মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার।

মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা। সাত হাজার ৩৩৭ জন কাউন্সিলর ও সমসংখ্যক ডেলিগেটসহ এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০ হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনে ৫০ হাজার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে দাওয়াতপত্র পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিশাল এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে ছয়টি নৌকা। উদ্যানের গাছে গাছে লাগানো হয়েছে মরিচবাতি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। মৎস্যভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে শোভা পাচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। পাশাপাশি লাগানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্রসম্বলিত ফেস্টুন।

মঞ্চ ও সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। সভামঞ্চ বহমান পদ্মার বুকে ৪০টি থামের ওপর দাঁড়িয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর নিচে বিশাল জলরাশিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছোট ছোট নৌকা। একটি ছোট জাহাজও ভাসছে। একপাশে চরে কাশবন দেখা যাচ্ছে। বিশালাকার এক পালতোলা নৌকাও ভাসছে নিজের গতিতে। পদ্মা সেতুর ওপর বিশালাকৃতির দলীয় প্রতীক নৌকা। জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি ধারণ করেছে নৌকাটি।

সারাদিন/২০ডিসেম্বর/টিআর