শীতে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, ২০/১২/২০১৯

রাজধানীসহ দেশে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। সেই সঙ্গে নানা রোগ সহ শ্বাসতন্ত্র জনিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। আর এতে ঠাণ্ডা, জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ার মতো রোগ হচ্ছে। তবে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

আবহাওয়াবিদদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ আগামী ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে পারে। রাজধানীতে তাপমাত্রা ১৩ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই রয়েছে। এর মধ্যেই বৃষ্টি ও বাতাস বইছে। যারা বাসা-বাড়ীর বাইরে কাজে রয়েছেন তারা নানা সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।

চিকিৎসকরা বলেন , মূলত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। এর পাশাপাশি বৃদ্ধরাও এই সমস্যায় পড়তে পারেন। এক্ষেত্রে শিশু ও বৃদ্ধদেরকে ঠিকমতো যত্নে রাখলেই সব রোগ থেকে দূরে থাকা যায়।

উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ঠাণ্ডায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে অবিভাবকদের ভিড়। হাসপাতালটির সিংহভাগ শিশুরোগীই ঠাণ্ডা, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত। তবে বৃদ্ধরাও এসেছেন এই হাসপাতালে।

আর রাজধানীর শিশুমেলার পাশে ঢাকা শিশু হাসপাতালে আজগর আলী এসেছেন তার অসুস্থ্য তিন বছরের বাচ্চা রাহাতকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, গত দুইদিন ধরে আমাদের বাচ্চার অনেক জ্বর ও ঠাণ্ডা। তাই দ্রুত হাসপাতালে এসেছি।

শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিজওয়ানুল আহসান বলেন, আমাদের হাসপাতালে সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী প্রতিদিন আসে। কিন্তু এই দুইদিন ধরে ২৫০ থেকে ৩০০ জন আসছে প্রতিদিন। এদের অধিকাংশই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।

তিনি বলেন, অধিক জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশিরভাগ শিশুদেরকে হাসপাতালে আনছেন অভিভাবকরা। এছাড়া আছে শুষ্ক ডাইরিয়া বা রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত ডায়রিয়া। এদের মধ্যে অনেককেই ওয়ার্ডে ভর্তি হতে হচ্ছে। এতে বেডের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

সেই চিকিৎসক বলেন, স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের আবার অ্যাজমা বেশি দেখা দিচ্ছে। শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেক শিশুদেরকে স্কুল থেকেই আনা হচ্ছে। এছাড়া ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত শিশুও পাওয়া যাচ্ছে।

এই হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সফি আহমেদ মুয়াজ বলেন, শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগী এই সময়ে বেশি আসছে। এছাড়া নাক, কান ও গলার সমস্যাজনিত রোগীর সংখ্যাও একেবারে কম নয়।

এসব সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, প্রথম কথা, ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখতে হবে শিশুদের। গরম কাপড়, কুসুম গরম পানি ও সবসময় গরম খাবার পরিবেশন করতে হবে। এছাড়া সবসময় হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে খেতে দিতে হবে। নইলে জীবাণুর আক্রমণে মারাত্মক ডায়রিয়া হতে পারে। কেননা এসময় বাতাসের আদ্রতা কম থাকায় জীবাণুগুলো মুক্ত বাতাসে উড়ে বেড়ায়। যা সহজেই শিশুদের আক্রমণ করে।

এছাড়া বড়রাও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সেক্ষেত্রেও রয়েছে শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমাজনিত সমস্যা। এ ব্যাপারে শ্যামলী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু রায়হান বলেন, শীতের কারণে ঠাণ্ডায়, অ্যাজমায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বেশ বেড়েছে। এছাড়া ঠাণ্ডায় শ্বাসকষ্টের কারণে অনেকে আসছেন। যাদের প্রথমে নেবুলাইজেশন করে তারপর চিকিৎসা করানো শুরু করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করাই মূল কাজ। যেকোনো উপায়ে ঠাণ্ডা থেকে দূরে থাকলেই হবে।

এদিকে রাজধানীতে প্যারাসিটামল, সেফিক্সিম, ডক্সিসাইক্লিন হাইড্রোক্লোরাইড, অ্যজিথ্রোমাইছিনের মতো ওষুধসহ ঠাণ্ডা-কাশি নির্মূলে সিরাপের বিক্রি আগের থেকে অনেক বেড়ে গেছে। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এসব ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলে উদ্বিগ্ন রয়েছেন চিকিৎসকরাও। কেননা ওষুধের দোকানের বিক্রেতারা কিংবা রোগীর নিজের পরামর্শ অনুসারেই এসব ওষুধ কেনা হচ্ছে।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ওষুধ বিক্রেতারা বলেন, ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার জন্য ক্রেতা বা রোগীরা এসে নিজেরাই অ্যান্টিবায়োটিক চায়। এক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ ছাড়াও হারবাল ও ইউনানি সিরাপও বেশ বিক্রি হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন মেপে পরিমাণ মতো প্যারাসিটামল ওষুধ দেয় চিকিৎসকরা। এক্ষেত্রে জ্বর হলে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিৎ। আর শিশুদেরকে অ্যান্টি হিস্টামিনও কম দেওয়া হয়। তাই অযথা ওষুধ খাওয়ানো থেকে একেবারে বিরত থাকা উচিৎ।

সারাদিন/১৮ডিসেম্বর/টিআর